ব্রুকলিনে 'ব্রিজ টু হোম' কেন্দ্র চালু
ঠিকানা রিপোর্ট
|
প্রকাশ :
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৯
গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ও আবাসনহীন নিউইয়র্কবাসীকে হাসপাতাল থেকে স্থায়ী আবাসনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ব্রুকলিনে নতুন 'ব্রিজ টু হোম' কেন্দ্র চালু করেছে নিউইয়র্ক সিটি। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মেয়র জোহরান মামদানি ও এনওয়াইসি হেলথ+ হসপিটালস নতুন কেন্দ্রটির উদ্বোধনের ঘোষণা দেন।
ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটসে চালু হওয়া এ কেন্দ্রে একসঙ্গে ৫০ জন পর্যন্ত নিউইয়র্কবাসীর থাকার ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেকের জন্য থাকবে ব্যক্তিগত কক্ষ। পাশাপাশি বাসিন্দারা মানসিক ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক সেবা এবং স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সহায়তা পাবেন।
'ব্রিজ টু হোম' কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বের হওয়া ব্যক্তিদের যেন সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তায় ফিরে যেতে না হয়। হাসপাতাল ছাড়ার পর একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে থেকে চি-কিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্থায়ী আবাসনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।
মেয়র মামদানি বলেন, হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সঙ্গে একজন মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া শেষ হয় না। চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদে থাকার জায়গাও প্রয়োজন। ব্রুকলিনে কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্থিতিশীলতা ও সহায়তা দিয়ে মর্যাদার সঙ্গে স্থায়ী আবাসনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা-বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ড. হেলেন আর্টেগা বলেন, এই কর্মসূচি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজনীয়তাকে একসঙ্গে মোকাবিলা করছে। ম্যানহাটনে প্রথম কেন্দ্র চালুর পর তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রুকলিনে দ্বিতীয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।
ব্রুকলিনের নতুন কেন্দ্রে চলতি সপ্তাহ থেকেই প্রথম অতিথিরা আসতে শুরু করবেন। একজন অতিথি সর্বোচ্চ ১২ মাস অথবা স্থায়ী সহায়ক আবাসনের
ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত এখানে থাকতে পারবেন। কেন্দ্রটি এনওয়াইসি হেলথ+ হসপিটালস/উডহাল হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় বাসিন্দারা হাসপাতালের সঙ্গে ধারাবাহিক চিকিৎসাসেবার সংযোগ বজায় রাখতে পারবেন। এখানে মাদক ও অন্যান্য পদার্থ ব্যবহারের সমস্যার চিকিৎসা, ব্যক্তিগত ও গ্রুপ থেরাপি, সামাজিক সেবা এবং ২৪ ঘণ্টা সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
এনওয়াইসি হেলথ হসপিটালসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মিচেল কাটজ বলেন, গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতাল ছাড়ার পর যদি চিকিৎসাসেবা-সমৃদ্ধ একটি স্থিতিশীল পরিবেশে থাকতে পারেন, তাহলে তাদের পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ে। ম্যানহাটনের প্রথম কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন সম্পন্ন করেছেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যানহাটনের মিডটাউনে প্রথম 'ব্রিজ টু হোম' কেন্দ্র চালু হয়। প্রথম বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সেখানে থাকা প্রায় ৮০ শতাংশ অতিথি প্রতি সপ্তাহে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিয়েছেন এবং প্রায় ৭০ শতাংশ স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন সম্পন্ন করেছেন। স্থায়ী সহায়ক আবাসনে স্থানান্তরিত হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থাকার গড় সময় ছিল প্রায় সাত মাস। ব্রুকলিন কেন্দ্র চালুর ফলে এখন একই সময়ে কর্মসূচিটির আওতায় প্রায় ১০০ জন নিউইয়র্কবাসীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, স্থায়ী আবাসনের অনিশ্চয়তা মানসিক অসুস্থতা থেকে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলতে পারে এবং জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে পুনরায় যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। তাই হাস-পাতাল থেকে বের হওয়ার পর নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসা ও আবাসন সহ-ায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
এনওয়াইসি হেলথ হসপিটালসের আচরণগত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, হাসপাতাল ছাড়ার পর অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত থাকলেও তাদের যাওয়ার মতো নিরাপদ জায়গা থাকে না। ফলে কেউ কেউ আবার সংকটজনিত অবস্থায় হাসপাতালে ফিরে আসেন। নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে উডহাল হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, নার্স, সমাজকর্মী ও পিয়ার স্পেশালিস্টরা কমিউনিটির মধ্যেই রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন। কংগ্রেসওম্যান ইয়েভেট ডি. ক্লার্ক, স্টেট সিনেটর জেলনর মাইরি এবং সিটি কাউন্সিলের সদস্য ক্রিস্টাল হাডসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্থিতিশীল আবাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে একসঙ্গে বিবেচনা করা পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রুকলিনে দ্বিতীয় 'ব্রিজ টু হোম' কেন্দ্র চালুর ফলে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ও আবাসনহীন নিউইয়র্কবাসীর জন্য হাসপাতাল থেকে সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্র বা রাস্তায় ফেরার পরিবর্তে চিকিৎসা, নিরাপদ আবাসন এবং শেষ পর্যন্ত স্থায়ী পুনর্বাসনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি কাঠামোবদ্ধ পথ তৈরি হলো।
কমেন্ট বক্স