প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৩
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী আইরিন জুবাইদা খানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান করেছে সরকার। বুধবার (৮ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, সরকার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মিজ আইরিন খানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান করেছে। তিনি দায়িত্ব পালনকালীন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে।
এর আগে সরকার আইরিন খানকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব অর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতির পর নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব আইরিন খান বর্তমানে জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক (UN Special Rapporteur on Freedom of Opinion and Expression) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। ওই পদে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী, প্রথম এশীয়, প্রথম মুসলিম এবং প্রথম বাংলাদেশি।
আইরিন খান যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল’ স্কুলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’ অর্গানাইজেশন (আইডিএলও) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ে তাঁর কাজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদান কেবল প্রটোকলগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ করবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তিরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা আরও কার্যকর হবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আইরিন খানের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, বহুপাক্ষিক কূটনীতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান এবং মানবাধিকার বিষয়ে দীর্ঘ কর্মজীবন জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক কার্যক্রম নতুন গতি পাবে বলেও সরকারের প্রত্যাশা।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সুনামের কারণে আইরিন খানের এই নিয়োগ এবং তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা প্রদানকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।