রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে • ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি’, সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের • ব্যাংক খাতের ক্ষতি পোষাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা লাগবে : গভর্নর • চারদিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী • ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার অভিনেতা ইমরান খান আটক • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা • মোদি সরকারের পতন অনিবার্য : রাহুল গান্ধী • ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই • বিতর্ক পেছনে ফেলে রোনালদোর গোল, জয়ে ফিরল আল নাসর • প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত যুব উন্নয়নের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

​কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মিন্টো রোডের বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠক শেষে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

বৈঠক শেষে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের পক্ষ থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নির্বাচনে জোটের অভিন্ন প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘১১ দলের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ আমাদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হবেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।’

অলি আহমদকে প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের চলমান সংকটের সময়ে রাষ্ট্রের জন্য যে ধরনের অভিভাবকত্ব প্রয়োজন, ১১ দল মনে করে কর্নেল অলি আহমদ সে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত। তার অভিভাবকত্ব ও নেতৃত্বে দেশের চলমান সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বৈঠকে এ নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোট, জুলাই সনদ এবং সরকারের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নতুন একটি পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছিল, যাতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে একজন সর্বজনগ্রাহ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, ১১ দলের প্রত্যাশা ছিল—জাতীয় নির্বাচনের পর জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ, অধিবেশন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লড়াই ছিল একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সরকারও পূর্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার পথেই হাঁটছে।’

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই তাকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু সরকার তাকে ছয় মাস ধরে দায়িত্বে রেখেছে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—যা তাদের কাছে সন্দেহজনক।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগামী নির্বাচন-পরবর্তী পাঁচ বছর বর্তমান রাষ্ট্রপতি বা নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে এবং ভবিষ্যতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হতে পারে—এসব বিষয় নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েছে।

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির অধীনে ইতিহাসে আমরা দেখেছি, তারা সবসময় চেষ্টা করেছে ট্রানজিশনের সময়গুলোতে ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখার। বিভিন্ন সময়ে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করেছে।’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রাধান্য থাকে এবং তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাজনীতিতে গণতন্ত্রের জন্য এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হওয়া উচিত।’

বৈঠকে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz