শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে • ‘পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদি’, সোমবার দিল্লিতে বড় বিক্ষোভের ডাক ইন্ডিয়া জোটের • ব্যাংক খাতের ক্ষতি পোষাতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা লাগবে : গভর্নর • চারদিনের সফরে ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী • ভারতে তরুণদের বিক্ষোভ, এবার অভিনেতা ইমরান খান আটক • প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেবে ঢাকা • মোদি সরকারের পতন অনিবার্য : রাহুল গান্ধী • ২০৩০ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চাই • বিতর্ক পেছনে ফেলে রোনালদোর গোল, জয়ে ফিরল আল নাসর • প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত যুব উন্নয়নের পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

​পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট জবাব চান হাসনাত আব্দুল্লাহ

​পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে স্পষ্ট জবাব চান হাসনাত আব্দুল্লাহ

বিজ্ঞাপন
নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের তোলা প্রশ্নের উত্তরে করা মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

সোমবার (২৪ আগস্ট) দিনগত রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের জন্য প্রশ্নটি ছিল, তিনি কি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন? উত্তর খুব সহজ, ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। উত্তর ‘হ্যাঁ’ হলে তিনি নাগরিকত্ব ছেড়ে থাকলে তিনি কাগজ দেখাবেন। কিন্তু তা না করে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যেভাবে অপেশাদার, ব্যাঙ্গাত্মক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য দিয়েছেন, তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হতভম্ব হয়ে দেখলাম প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাব না দিয়ে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলছেন, ‘কোন পত্রিকা ঠিক? কে এত চিন্তিত যে আমাকে কাজ করতে দেবে না, হ্যাঁ? তাহলে তারা এত চিন্তিত কেন? তারা কি আবার ২০০৮ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েছে? আবার কি মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের সেই চুলকানি শুরু হয়েছে? নাকি কী?”

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও লেখেন, এই রকম আচরণ দিয়ে একজন মানুষ কী করে কূটনীতি সামাল দেবেন। কূটনীতিকরা বিনয়ী ভদ্র হন। কোনো প্রশ্ন এড়াতে চাইলে, তা কূটনীতির মারপ্যাঁচে এড়িয়ে যান। কিন্তু বিএনপির প্রতিমন্ত্রী তো কূটনীতির ধারেকাছে গেলেন না, বরং তার নাগরিকত্ব নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এটাকেই আক্রমণ করলেন।

“সংবিধান, আইন, বিধি-বিধান সবার জন্য সমান ও সহজ। কোনো ব্যক্তির বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে তিনি এমপি, মন্ত্রী হতে পারবেন না। এনসিপির একজন নেতা এ কারণে নির্বাচন করতে পারেননি। আমরা কষ্ট পেলেও আইনী বিধান মেনে নিয়েছিলাম। বিএনপির অন্তত হাফডজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্ব গোপন করেছিলেন। টিআইবির তিনজনের কথা বলেছে। কিন্তু আমরা জানি, এই সংখ্যাটি আরও বড়। যে ব্যক্তি তথ্য গোপনের মত অসততা করে এমপি, মন্ত্রী হতে পারেন, তার পক্ষে আরও বহুরকমের অসততা করা সম্ভব।’

“হুমায়ুন কবির আমাদের শত্রু নন। তিনি বহু বছর যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের সহযোগী ছিলেন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী তো জানার কথা হুমায়ুন কবিরের সেই দেশের নাগরিকত্ব রয়েছে। তিনি কী জেনে বুঝেই এ কাজটি করেছেন? গণতন্ত্রে মন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদে জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক। আমরা হুমায়ুন কবিরের জেল ফাঁসি চাইছি না। শুধু জানতে চাই, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কিনা? ছেড়ে থাকলে প্রমাণ কী? তিনি যদি উত্তর না দেন, তাহলে এটা সত্য যে উনি এখনও যুক্তরাজ্যের নাগরিক। এর মাধ্যমে তিনি জনগণের সঙ্গে অসততা করছে। সংবাদমাধ্যমকে গরম চোখ দেখিয়ে ক্ষমতার দম্ভ দেখাচ্ছেন।”

এনসিপির এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, “আওয়ামী লীগের দুই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বেলজিয়ামের এবং আবদুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তারা এই তথ্য গোপন করে মন্ত্রীত্ব করে প্রতারণা করেছেন। ৫ আগস্টের পর তারা নিজ নিজ দেশে পালিয়ে গেছেন। একই রকম প্রতারণা অসততা এই বাংলাদেশে আর চাই না। বিএনপি আরেকটা আওয়ামী লীগ সরকার হোক চাই না।”

“কিন্তু প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যাঙ্গ করা, তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেওয়া এবং ২০০৮ ও মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন আমলের প্রসঙ্গ টেনে আনা কোনোভাবেই একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত পেশাদার আচরণ হতে পারে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রী এখনো মূল প্রশ্নটির কোনো স্পষ্ট ও তথ্যভিত্তিক জবাব দেননি। মন্ত্রীর এই আচরণ শুধু একজন সাংবাদিককে নিরুৎসাহিত করে না; এর প্রভাব পুরো সংবাদমাধ্যমের ওপর পড়ে। আজ একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে ভয় পেলে, কাল আরও দশজন প্রশ্ন করার আগে ভাববেন। সেখান থেকেই শুরু হয় self-censorship।”

পোস্টের শেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “আমরা অতীতে দেখেছি, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের কীভাবে রাজনৈতিক তকমা দেওয়া হয়েছে, কীভাবে ভয় ও চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের কাছ থেকে সেই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি আমরা নিশ্চয়ই প্রত্যাশা করি না। মন্তব্যের জন্য শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, প্রতিমন্ত্রীকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে তিনি কী বিদেশি নাগরিক? ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’- বলুন।”

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz