গাজার মানবিক সংকট : নির্বাচিত দুই
ডেমোক্র্যাট নেতাসহ বহু মানুষ গ্রেপ্তার
ইহুদি সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর
পিসের প্রতিবাদে উত্তাল নিউইয়র্ক
মার্কিন সিনেটর চাক শ্যুমার ও কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ডের অফিসে গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে নিউইয়র্কের নির্বাচিত দুই ডেমোক্র্যাট নেতাসহ বহু মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
গত ১ আগস্ট শুক্রবার ম্যানহাটনের একটি বহুতল ভবনের লবিতে জড়ো হন ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ (ঔবরিংয ঠড়রপব ভড়ৎ চবধপব) নামক একটি সংগঠনের অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী। তাদের হাতে ছিল পোস্টার। পোস্টারে লেখা ছিল : ‘Let Gaya Live’, ‘Stop Arming Israel’, ‘Never Again is Now’, এবং ‘Jews to Schumer: STOP Starving Gaya’। তারা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘Free PalestineÕ, ‘Let Aid in Now’ এবং ‘Stop the Genocide’।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য টিফানি কাবান এবং স্টেট অ্যাসেম্বলি মেম্বার ক্লেয়ার ভালদেজ। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের প্লাস্টিকের হ্যান্ডকাফ দিয়ে আটক করে সরিয়ে নিতে শুরু করলে সে সময় তারা ‘Let Gaya Live’ ও ‘Stop Starving Gaya’ স্লোগান দেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, টিফানি কাবানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সে সময় তিনি বলেন, ‘গাজাকে অনাহারে মারার জন্য আমেরিকান অর্থায়ন চলছে। এটা এখনই বন্ধ করতে হবে।’
ভালদেজের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে ‘Trespassing’ এবং ‘Failure to Disperse’ অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বেলা ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কেন এই প্রতিবাদ? : এই বিক্ষোভের পেছনে রয়েছে মার্কিন সিনেটে বার্নি স্যান্ডার্স উত্থাপিত দুটি প্রস্তাব বাতিল হওয়া। এই প্রস্তাবগুলো ছিল ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা, যার একটি ছিল অ্যাসল্ট রাইফেল সরবরাহ বন্ধ এবং অন্যটি ৬৭৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক ২৭ জন সিনেটর প্রথম প্রস্তাব এবং ২৪ জন দ্বিতীয় প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। কিন্তু শ্যুমার ও গিলিব্র্যান্ড এই প্রস্তাবের পক্ষে দাঁড়াননি।
কী বলছেন শ্যুমার? : জ্যেষ্ঠ ইহুদি রাজনীতিক ও সিনেটর চাক শ্যুমার গত বছর মার্চে বলেন, ‘ইসরায়েলের জন্য প্রধান অন্তরায় এখন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।’ তিনি আরও বলেন, ‘অক্টোবর ৭-এর পর ইসরায়েল ও বিশ্ব বদলে গেছে, কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার অতীতেই আটকে আছে। ইসরায়েলকে নতুন নির্বাচনের দিকে এগোতে হবে।’ তবে একই সময়ে শ্যুমার কংগ্রেসে নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানোয় সমালোচিত হন। তার দাবি, ‘আমার কাজ হচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থীদের ইসরায়েলের পক্ষে রাখা।’
ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অবস্থান : ফ্রান্স ও কানাডা সম্প্রতি ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও হুমকি দিয়েছে, যদি ইসরায়েল গাজায় ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারাও স্বীকৃতি দেবে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বিরোধিতা করে বলেন, ‘এটি হামাসকে পুরস্কৃত করার নামান্তর।’ ট্রাম্প জানান, ‘গাজায় প্রকৃত দুর্ভিক্ষ চলছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা আরও সহায়তা করব।’
প্রতিবাদকারীদের বক্তব্য : Jewish Voice for Peace-এর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের পরিবারও একসময় গণহত্যায় প্রাণ হারিয়েছে বা অনাহারে মরেছে। সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এবার চুপ থাকতে পারি না। ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ ও গাজা অবরোধ বন্ধ করুন।’