শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

এল নিনোয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করবে আইএমএফ

এল নিনোয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করবে আইএমএফ

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিলিনা জর্জিয়েভা সংস্থাটির বার্ষিক সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথা বলছেন। ছবি : এএফপি

বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ‘এল নিনো’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ৭ অক্টোবর (বুধবার) বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। একই সঙ্গে তিনি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি যা সমুদ্রের উপরিভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ফিরে আসে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়।

বিশ্বব্যাপী আবহাওয়া পূর্বাভাসদাতারা ধারণা করছেন, এ বছরের এল নিনো আধুনিক যুগে আগে কখনো দেখা যায়নি এমন তীব্রতায় পৌঁছাবে। এটি মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তৈরি হওয়া চরম আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
মধ্য আমেরিকার দেশগুলো ইতোমধ্যেই খরা পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে—যার ফলে উভয় অঞ্চলেরই কৃষিশস্য ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘চলতি বছর যে এল নিনোর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। এছাড়া খাদ্যের দাম উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এর হাত ধরে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তা নিয়েও আমরা চিন্তিত।’

ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘দেশগুলোর প্রতি আমাদের পরামর্শ হলো—তারা যেন নিজেদের অত্যন্ত সীমিত আর্থিক বা রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকে।’ সেই সাথে কিছু দেশ বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা আরও বলেন, ‘বাইরের কোনো চরম প্রতিকূলতার মুখে দুর্বল দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়াই একটি সংস্থা হিসেবে আমাদের অন্যতম কাজ; তাই ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের পাশে দাঁড়াতে যদি এল নিনো একটি বড় আঘাত হিসেবে দেখা দেয়, তবে আমরাও সহায়তা দিতে প্রস্তুত হচ্ছি।’

জর্জিয়েভা 'দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কার ঝুঁকির' কথা উল্লেখ করে বলেন—একদিকে এল নিনো, অন্যদিকে মার্কিন-ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য বৃদ্ধি এই সংকটকে জটিল করে তুলছে।

‘কিছু দেশ হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম হতে পারে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রগুলো, বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো আরও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন’—উল্লেখ করে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা একটি ‘সমন্বিত’ বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

ঠিকানা/এএস

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz