ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন মূর্তি'র নাম ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৩১
•
অনলাইন সংস্করণ
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ব্যঙ্গাত্মক নগ্ন মূর্তি প্রদর্শন করা হয়েছে। আট ফুট উচ্চতার সোনালি রঙের এই ভাস্কর্যটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য অরেঞ্জ প্লেগ’।
ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে প্রদর্শিত মূর্তিটি তৈরি করেছেন ডেনমার্কের ভাস্কর জেনস গালশিওট। ২৩ ক্যারেট স্বর্ণের পাত দিয়ে পুরো ভাস্কর্যটি আবৃত করা হয়েছে। খবর ইন্ডিপেন্ডেন্টের।
মূর্তিতে ট্রাম্পকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় তুলনামূলক ছোট আকৃতির এক ব্যক্তির কাঁধের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। তার এক হাতে রয়েছে গলফ ক্লাব ও পৃথিবীর আকৃতির একটি বল, অন্য হাতে রয়েছে একটি দাঁড়িপাল্লা।
মূর্তিটির ভিত্তিতে ‘দ্য কিং অব ইনজাস্টিস
’ বা ‘অন্যায়ের রাজা’র নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য লেখা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি একজন মানুষের পিঠে বসে আছি। আমার ভারে সে ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব—তবে তার পিঠ থেকে নামব না।’
রাজনৈতিক বক্তব্যধর্মী ভাস্কর্যের জন্য পরিচিত গালশিওট এই শিল্পকর্মকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ ও পররাষ্ট্রনীতির অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি ‘ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শিল্পীর ভাষ্য, ট্রাম্প ‘নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অন্যতম বড় হুমকি’।
জেনস গালশিওট বলেন, ‘আমাদের এই বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে এবং এমন ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে।’
নতুন ভাস্কর্যটি গালশিওটের আগের বিখ্যাত শিল্পকর্ম ‘সারভাইভাল অব দ্য ফ্যাটেস্ট’-এর আদলে তৈরি। ওই ভাস্কর্যে অতিরিক্ত ওজনের এক নারীকে কাঁধে বহন করতে দেখা যায় ক্ষুধার্ত এক শিশুকে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।
ডেনমার্কের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য পের ক্লাউসেন নতুন ভাস্কর্যটির প্রদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি এতটাই স্পর্শকাতর হন যে এই ভাস্কর্য প্রদর্শন সহ্য করতে পারেন না, তাহলে বিশ্বমঞ্চে তার কোনো স্থান নেই।
তবে ট্রাম্পকে নিয়ে এমন নগ্ন ভাস্কর্য এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ৪৩ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ‘সুইং স্টেট’-এ প্রদর্শন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নেভাদা, অ্যারিজোনা, উইসকনসিন ও মিশিগান।
এরও আগে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ট্রাম্পের পাঁচটি জীবনাকৃতির ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল। সেগুলোর সঙ্গে লেখা ছিল—‘দ্য এম্পেরর হ্যাজ নো বলস’।
স্ট্রাসবুর্গে প্রদর্শিত সর্বশেষ ভাস্কর্যটি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেখানে থাকার কথা রয়েছে। আগামী নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনেও এটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে ভাস্কর্যটির থ্রিডি-প্রিন্টেড ছোট সংস্করণ বিতরণ করবেন শিল্পী গালশিওট।