বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান • ১২ অক্টোবর জানা যাবে ইউপি ভোটের তফসিল ও ধাপ : ইসি সানাউল্লাহ • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন • বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের  মর্যাদা ব্যাপক ক্ষুণ্ন করছে শাহজালাল বিমানবন্দর! • শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন • জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মরদেহ উদ্ধার • চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই • বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের  মর্যাদা ব্যাপক ক্ষুণ্ন করছে শাহজালাল বিমানবন্দর!

বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের  মর্যাদা ব্যাপক ক্ষুণ্ন করছে শাহজালাল বিমানবন্দর!

বিজ্ঞাপন
একজন সাংবাদিক হিসাবে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের যত দেশ ঘুরেছি, তাতে নিজেকে একজন বিশ্বপর্যটক দাবি করতেই পারি। ইউরোপ-আমেরিকার দেশের কথা বাদ দিয়ে যদি পাশের দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা তুলে ধরি- সেটাকে যদি আধুনিক সুবিধাসম্বলিত ও পরিচ্ছন্ন বিমানবন্দর বললে ভুল হবে না। 
এবার আসি ইউরোপের দেশ নরওয়ের উত্তরের শহর হেমারফেস্টের একটি ছোট্ট বিমানবন্দরের কথায়। ২০১৭ সালে দেশটির বিভিন্ন শহর ভ্রমণের সুযোগ হয়েছে। হেমারফেস্ট বিমানবন্দরটি দিনে দুই বার দরজা খোলা হয়। অথচ বিমানবন্দরটি পরিপার্টি করে সাজানো। চকচকা-তকতকা। পর্যটক নির্ভর শহরটির একটি চিত্র ফুটে ওঠে এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করলে। 
কিন্তু- নিজ জন্মভূমির প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কথা যদি বলি, তখন ভেতরটা গুমড়ে কেঁদে ওঠে। কতদিন চলবে এই দুরবস্থা? আমার দেশের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বিবেচনায় একটি দেশের জন্য আগে কোনটা জরুরি? অবশ্যই দেশের বিমানবন্দরের কথা সবার আগে আসবে। কিন্তু ৫৫ বছর বয়সী একটি দেশের বিমানবন্দরের উন্নয়ন কেন এত ধীরগতিতে হবে? আধুনিক থার্ড টারমিনাল হয়েছে। কিন্তু আজও চালু হয়নি। কবে চালু হবে তা কেউ জানে না। অথচ থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগের চেয়ে বেশী হয় রাজনীতি চর্চা। বিমানবন্দরের উন্নয়নে সরকার যে চেষ্টা করে না, সেটা বললেও ভুল হবে। কিন্তু সরকারের কোনো চেষ্টা সফল হতে দেয় না নানান সিন্ডিকেট। সীমাবদ্ধতার মাঝেও যতটুকু সুবিধা একজন যাত্রীর পাওয়ার কথা, সেটুকুও পান না তারা। ন্যুনতম সেবা তদারকি করতে বিমানবন্দরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। কিন্তু সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে তারা সেখানে টিকে থাকতে পারেন না। লাগেজসহ অন্যান্য সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের শরীরে ক্যামেরা স্থাপন করেও তা স্থায়ী করা যায়নি। অর্থাৎ ছোট-বড় সব চেষ্টাই একসময় ব্যর্থ হয়ে যায়। সেখানে সরকার বাহাদুর আর কী-ই বা করবেন?
এসব ছোটখাটো উদাহরণ। নিজ দেশের বিমানবন্দর নিয়ে হাজারো অভিযোগ যাত্রীদের। ইমিগ্রেশনে হয়রানি হতে হয় নানান অজুহাতে। আর ব্যাগেজ ক্লেইম সেকশনে তো সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগের অন্ত নেই। লাগে পেতে বিলম্ব হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সামান্য ট্রলি পেতে লাইন পেতে হয়। দেশের মানুষ না হয় এসব হজম করবেন। কিন্তু একজন বিদেশি কেসন এসব সহ্য করবেন। তিনি তে বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য এয়ার টিকেটের সাথে অর্থ ব্যয় করেন। সহ্য বা ধৈর্যের প্রসঙ্গ এখানে যতটা গুরুক্বপূর্ণ, তার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ, একজন বিদেশি যাত্রীর মনে কি ধারণা জন্মাচ্ছে? বাংলাদেশ একটি গরীব দেশ। বিশৃঙ্খলতায় পরিপূর্ণ একটি দেশ। আমি আর কোনো দেশের বিমানবন্দরের এত করুণ চিত্র কখনো দেখিনি। সম্প্রতি একটি ভিডিও দেখলাম ফেসবুকে। সেখানে কেউ একজন হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের সামনে অংশে গাড়ি পার্কিং এলাকায় বর্জ্য পড়ে থাকার ভিডিও শেয়ার করেছেন। সত্যি, ভিডিও দেখে স্তম্ভিত হয়েছি। এটাই আমার দেশের প্রধান বিমানবন্দর? এসব পরিস্কার করার জন্য কি কোনো লোকবল নিয়োগ করা নেই। সিভিল এভিয়েশন কি করছে? সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তারা কী কখনো বিদেশ সফর করেন না? তাদের চোখে কী এই বৈপরীত্য কখনো চোখে পড়ে না?
একজন বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী বা বিনিয়োগকারী যখন প্রথমবার কোনো দেশে পা রাখেন, তখন সেই দেশের সঙ্গে তাঁর প্রথম বাস্তব পরিচয় ঘটে বিমানবন্দরে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার ব্যবহার, ব্যাগ পেতে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো, শৌচাগার কতটা পরিচ্ছন্ন, কোথায় যেতে হবে তা সহজে বোঝা যাচ্ছে কি না, কয়েক ঘণ্টার যাত্রার পর বসার আরামদায়ক জায়গা আছে কি না, এমন ছোট ছোট অভিজ্ঞতা মিলিয়েই তাঁর মনে তৈরি হয় একটি দেশের প্রথম ছবি।
আর সেই জায়গাতেই বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে মাত্র ‘২-তারকা বিমানবন্দর’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন রেটিং প্রতিষ্ঠান স্কাইট্র্যাক্স। প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়নে যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতা, কেনাকাটা, খাবার ও পানীয় এবং কর্মীদের সেবা, বিভিন্ন সূচকে ঢাকার প্রধান বিমানবন্দরের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে। 
স্কাইট্র্যাক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার মান নিম্ন এবং একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রয়োজনীয় অনেক সুবিধার গুরুতর ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কেনাকাটা ও খাবারের সীমিত সুযোগ, মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ চার্জ দেওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা, বসার ভালো ব্যবস্থার অভাব এবং পরিচ্ছন্নতার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশি ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াকেও প্রতিষ্ঠানটি ধীরগতির ও অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 
একসময় বিমানবন্দরকে মূলত পরিবহন অবকাঠামো হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর একই সঙ্গে একটি দেশের প্রবেশদ্বার, ব্র্যান্ড, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং আতিথেয়তার প্রতীক।
এয়ারপোর্টস কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল বলছে, আধুনিক বিমানবন্দর শুধু বিমান ওঠানামার জায়গা নয়; এগুলো একটি শহর, অঞ্চল কিংবা দেশের প্রবেশদ্বার এবং পর্যটন ও ব্যবসা, উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো। যাত্রীর বিমানবন্দর-অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের ব্র্যান্ড-ভাবমূর্তির ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ওঈঅঙ-ও বিমানবন্দরকে একটি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক এবং পর্যটন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করে। অর্থাৎ বিমানবন্দর ভালো হলে শুধু যাত্রীর কষ্ট কমে না—একটি দেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের শুরুটাও ইতিবাচক হয়। সিঙ্গাপুর, দোহা, দুবাই, ইস্তাম্বুল কিংবা সিউলের মতো শহরগুলো তাদের বিমানবন্দরকে কেবল অবকাঠামো হিসেবে তৈরি করেনি; বিমানবন্দরগুলোকেই জাতীয় সক্ষমতার প্রদর্শনীতে পরিণত করেছে। যাত্রী সেখানে নেমেই একটি বার্তা পান—দেশটি সংগঠিত, আধুনিক এবং অতিথিকে গুরুত্ব দেয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রশ্নটি তাই শুধু শাহজালাল বিমানবন্দর কতটা সুন্দর, তা নয়; প্রশ্ন হলো- আমরা বিশ্বের কাছে নিজেদের কীভাবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই?
স্কাইট্র্যাক্সের মূল্যায়নের পরিধি বেশ বিস্তৃত। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর গণপরিবহন ও ট্যাক্সি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা তল্লাশির অপেক্ষার সময়, কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও ব্যবহার, আগমন ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন, দিকনির্দেশনা, তথ্যকেন্দ্র, ব্যাগেজ ডেলিভারি, চেক-ইন এলাকার ভিড়, ট্রানজিট সুবিধা—সবই তাদের বিবেচনায় রয়েছে। এর পাশাপাশি টার্মিনালের তাপমাত্রা, সাজসজ্জা, বসার জায়গা ও চেয়ার কতটা আরামদায়ক, চার্জিং পয়েন্ট, আসন ও শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা, প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা, শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের জায়গা, ওয়াই-ফাই, এটিএম, বিশ্রামের স্থান এবং শিশুদের জন্য খেলার জায়গার মতো বিষয়ও মূল্যায়নের অংশ। দোকানের সংখ্যা ও মান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের উপস্থিতি, খাবারের বৈচিত্র্য, দাম ও সেবাও বিবেচনা করে স্কাইট্র্যাক্স। এ কারণেই ২-তারকা রেটিংকে শুধুই ভবনের সৌন্দর্য বা পুরোনো টার্মিনালের সীমাবদ্ধতার বিচার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি বিমানবন্দরের পুরো যাত্রী-অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন।
ধরা যাক, একজন বিদেশি উদ্যোক্তা প্রথমবার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখতে বাংলাদেশে গেলেন। দীর্ঘ যাত্রা শেষে তিনি ঢাকায় নামলেন। ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ লাইন, লাগেজ পেতে অপেক্ষা, পরিষ্কার শৌচাগার খুঁজতে সমস্যা, বাইরে বের হয়ে নির্ভরযোগ্য পরিবহন নিয়ে অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে তাঁর মনে বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে শুরু করবে হোটেলে পৌঁছানোর আগেই।
আবার উল্টো চিত্রও সম্ভব। দ্রুত ইমিগ্রেশন, হাসিমুখে সহায়তা, পরিষ্কার টার্মিনাল, স্পষ্ট ইংরেজি-বাংলা নির্দেশনা, দ্রুত লাগেজ, নির্ভরযোগ্য ট্যাক্সি—এসব বিষয় একজন যাত্রীকে বলে দেয় যে তিনি এমন একটি দেশে এসেছেন, যেখানে ব্যবস্থাপনা কাজ করে।
বিশ্বব্যাংকের একটি বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনায় জর্ডানের কুইন আলিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নত সুবিধা ও সেবা দেশটির আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে ভাবমূর্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বিমানবন্দর উন্নয়নে বিনিয়োগ কেবল ভবন নির্মাণের বিনিয়োগ নয়; এটি অনেক ক্ষেত্রেই একটি দেশের ভাবমূর্তিতে বিনিয়োগ।
বাংলাদেশ এখন আর শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক একটি দেশ নয়। দেশের মানুষ প্রযুক্তি, ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি, স্টার্টআপ, পর্যটন ও বিভিন্ন সেবা খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের জায়গা বাড়াতে চাইছে। কয়েক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সঙ্গে দেশের নিয়মিত যোগাযোগও বিমানবন্দরকেন্দ্রিক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইনস প্রতিদিন ঢাকাকে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিজস্ব ফ্লাইট সূচিতেও এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, থাই এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক কোম্পানির নিয়মিত কার্যক্রম দেখা যায়। ফলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর শুধু ঢাকার বিমানবন্দর নয়। এটি কার্যত বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক অভ্যর্থনাকেন্দ্র।
বাংলাদেশ বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামো দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী ও কার্গো চাহিদা মোকাবিলার পরিকল্পনার অংশ। সরকারি তথ্যেও শাহজালালকে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর তৈরির জন্য কেবল নতুন ভবন যথেষ্ট নয়।
একটি চকচকে টার্মিনাল বানানো তুলনামূলক সহজ; প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীর জন্য ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা অনেক কঠিন। এ জন্য প্রয়োজন দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর ইমিগ্রেশন, সুশৃঙ্খল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পেশাদার ও যাত্রীবান্ধব কর্মী, মানসম্মত শৌচাগার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বসার জায়গা ও চার্জিং পয়েন্ট, আন্তর্জাতিক মানের খাবার ও দোকান, নির্ভরযোগ্য ওয়াই-ফাই, সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং বিমানবন্দর থেকে শহরে যাওয়ার নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবহন ব্যবস্থা।
এসিআই-এর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক যাত্রী-অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণেও পরিচ্ছন্ন ও স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ এবং বিমানবন্দর কর্মীদের মসৃণ, মানবিক আচরণকে যাত্রী সন্তুষ্টির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্কাইট্র্যাক্সের ২-তারকা রেটিং বাংলাদেশের জন্য সুখকর কোনো স্বীকৃতি নয়। তবে এটিকে শুধু সমালোচনা হিসেবে দেখারও প্রয়োজন নেই। বরং কোথায় সমস্যা রয়েছে, তার একটি আন্তর্জাতিক চেকলিস্ট হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে। নতুন অবকাঠামোর পাশাপাশি যদি যাত্রীসেবার এসব মৌলিক জায়গায় পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা বদলানো অসম্ভব নয়।
স্কাইট্র্যাক্স নিজেও জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রেটিং মূল্যায়নের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর সারসংক্ষেপ এবং সময়ের সঙ্গে তথ্য ও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ আজকের দুই তারকা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্থায়ী পরিচয় হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। কিন্তু পরিবর্তনের জন্য আগে স্বীকার করতে হবে, একটি দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সেই দেশের বসার ঘরের মতো। অতিথি ঘরে ঢোকার প্রথম কয়েক মিনিটেই বুঝতে পারেন, তাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ যদি পর্যটক চায়, বিদেশি বিনিয়োগ চায়, আন্তর্জাতিক ব্যবসার কেন্দ্র হতে চায় এবং বিশ্বের সামনে একটি আধুনিক ও আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়াতে চায়, তাহলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে শুধু যাত্রী ওঠানামার জায়গা হিসেবে দেখলে চলবে না।
পাসপোর্টে বাংলাদেশের সিল পড়ার আগেই একজন বিদেশির মনে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি হয়, তার বড় একটি অংশ তৈরি করে বিমানবন্দর। তাই শাহজালালের মানোন্নয়ন শুধু একটি বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের পরিচয় আরও সুন্দর, সক্ষম ও সম্মানজনক করে তোলার প্রশ্ন।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz