বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী মার্কিন প্রতিষ্ঠান • ১২ অক্টোবর জানা যাবে ইউপি ভোটের তফসিল ও ধাপ : ইসি সানাউল্লাহ • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন • সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন • বিশ্বের চোখে বাংলাদেশের  মর্যাদা ব্যাপক ক্ষুণ্ন করছে শাহজালাল বিমানবন্দর! • শিশির মনিরকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার চাইলেন রাশেদ খাঁন • জঙ্গল সলিমপুরে হবে পুলিশ একাডেমি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী • নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মরদেহ উদ্ধার • চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই • বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন

বিজ্ঞাপন
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডীয় লেখিকা অ্যান কার্সন। সাহিত্যে তার সাহসী ও নতুন ধরনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম থেকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

অ্যান কার্সন ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮১ সালে তিনি ক্লাসিকস বিষয়ে ‘ওদি এত আমো এরগো সুম’ নামে ডক্টরাল থিসিস প্রকাশ করেন। এই ল্যাটিন বাক্যাংশটির শাব্দিক অর্থ, ‘আমি ঘৃণা করি এবং আমি ভালোবাসি, সুতরাং আমি আছি’।

তিনি কবিতা লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বই অনুবাদ করেছেন এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। অ্যান কার্সনের বেশিরভাগ সাহিত্যকর্মে ভাষা ও শব্দের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পেয়েছে। নতুন অর্থ ও ভাবনা তৈরির জন্য তিনি শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করেন। তার অনেক লেখার শুরুই শব্দের ব্যুৎপত্তি থেকে।

অ্যান কার্সন তার পুরো সাহিত্যজীবনে লেখার নতুন নতুন ধরন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। প্রচলিত সাহিত্যিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভিন্নভাবে লেখার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। এর একটি উদাহরণ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘ফ্লোট’। বইটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লেখা ২২টি ছোট রচনা রয়েছে। এগুলো যেকোনো ক্রমে পড়া যায়।

এ ছাড়া দৃশ্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক, অপেরা ও থিয়েটার পরিচালকদের সঙ্গে অ্যান কার্সনের যৌথ কাজ তার ভিন্নধর্মী চিন্তা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তিনি প্রচলিত সাহিত্যিক নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে পছন্দ করেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিক শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনে তার কাজ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘রং নর্মা’তেও কার্সনের এই বৈচিত্র্যময় লেখার ধরন দেখা যায়। বইটিতে বিভিন্ন ধরনের রচনা রয়েছে এবং এতে অভিনয় ও মঞ্চ পরিবেশনার উপাদানও রয়েছে। একই সঙ্গে সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রের নানা বিষয় তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তার করা অনুবাদগুলোও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে গ্রিক কবি স্যাফোর কবিতার বিভিন্ন খণ্ডাংশ নিয়ে কাজ এবং ২০০২ সালে প্রকাশিত ‘ইফ নট, উইন্টার’ উল্লেখযোগ্য। তিনি গ্রিক নাট্যকার সফোক্লিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘অ্যান্টিগোন’ এবং ইউরিপিডিসের ‘বাক্কাই’ নাটকও অনুবাদ করেছেন। এসব অনুবাদ যথাক্রমে ২০০১ ও ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘গ্লাস, আয়রনি অ্যান্ড গড’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্য গ্লাস এসে’। এই দীর্ঘ কবিতায় কবিতা, প্রবন্ধসহ বিভিন্ন সাহিত্যধারার মিশেল দেখা যায়। এর মাধ্যমে কার্সন দীর্ঘ কবিতার একটি নতুন ধরনের রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে বিভিন্ন সাহিত্যধারার সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।

১৯৯০-এর দশকে অ্যান কার্সনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই বইটিকে তার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে ধরা হয়। বইটিতে কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যকে আধুনিক জীবন ও ভাষার সঙ্গে মিলিয়েছেন। এর মূল চরিত্র গেরিয়ন—ডানাওয়ালা এক লাল দানব।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গ্রিক কবি স্টেসিখোরোসের গেরিয়নকে নিয়ে লেখা একটি কবিতার খণ্ডাংশ থেকেই কার্সন এই বইয়ের ভাবনা নিয়েছেন। প্রাচীন এই গল্পকে আধুনিক ভাষা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে কার্সন বইটিতে একটি নতুন ধরনের সাহিত্যিক রূপ তৈরি করেছেন।

ঠিকানা/এএস 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz