বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন : চলছে জোর প্রচার-প্রচারণা
ভোটের লড়াইয়ে ২০ লাখ ডলারের ব্যয়!
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৯
•
অনলাইন সংস্করণ
ঠিকানা রিপোর্ট : নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণা। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার অনুষ্ঠিত হবে বহুল আলোচিত এই নির্বাচন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ, সমর্থকদের তৎপরতা এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়, নৈশভোজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, পোস্টার-ব্যানার এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুই প্যানেলের প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে দুটি বিষয়, রেকর্ডসংখ্যক ভোটার এবং নজিরবিহীন নির্বাচনী ব্যয়। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের হিসাব ও অনুমান অনুযায়ী, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচন কমিশনের ভোট আয়োজনের ব্যয় মিলিয়ে মোট খরচ ২০ লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রবাসীদের একটি সামাজিক সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে এত বিপুল অর্থ ব্যয়ের আলোচনা নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। যে সংগঠনের নির্বাচনেই ২০ লাখ ডলার খরচের হিসাব উঠছে, সেই সংগঠন থেকে সাধারণ প্রবাসীরা বাস্তবে কতটা সেবা পাচ্ছেন? গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সোসাইটির অর্জনই বা কী? আর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে কী পরিবর্তন আসবে?
এবারের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে রয়েছে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল। অন্যদিকে সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল। সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রাব্বী সৈয়দ।
কার্যনির্বাহী পরিষদের ২১টি পদে দুই প্যানেলের ৪২ জন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরের নেতৃত্বাধীন কমিশন নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।্
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসের পাঁচটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নিজেদের ভোটকেন্দ্র ও ভোট-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী ইতিহাসে এবারই সর্বাধিক ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্য অনুযায়ী, ভোটারের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত হিসাবে ভোটার ছিলেন ৩৫ হাজার ২৬৯ জন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ হাজার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে ভোটারসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
ভোটারসংখ্যার এই বৃদ্ধি সংগঠনের প্রতি প্রবাসীদের আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ, নাকি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্যে দুই পক্ষের ব্যাপক সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের ফল—সেই আলোচনা চলছে কমিউনিটিতে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মহলের হিসাবে, এবারের মোট ব্যয়ের বড় অংশই হয়েছে সদস্য নিবন্ধন ও নবায়ন কার্যক্রম ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটারের সদস্য ফি প্রার্থী, প্যানেলের সমর্থক কিংবা শুভানুধ্যায়ীরা বহন করেছেন। তবে কতজন ভোটার নিজ অর্থে সদস্য হয়েছেন এবং কতজনের ফি অন্যরা দিয়েছেন, তার কোনো নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যায়নি।
এদিকে প্রচার-প্রচারণার ব্যয়ও কম নয়। নির্বাচনী সভা, রেস্টুরেন্ট ও হল ভাড়া, খাবার, প্রচারসামগ্রী, যোগাযোগ এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রমে কোনো কোনো প্যানেলের দৈনিক প্রায় পাঁচ হাজার ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, একটি অলাভজনক সামাজিক সংগঠনের নির্বাচনে এত অর্থ কোথা থেকে আসছে? প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যক্তিগত অনুদান কত? নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়ায় আর্থিক স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে দুই প্যানেলই প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সেলিম-আলী প্যানেল বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, সাংগঠনিক উন্নয়ন, ঐক্য, স্বচ্ছতা এবং কমিউনিটির কল্যাণকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রচারণায় প্রবাসীদের আইনি সহায়তা, আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা মোকাবিলা, নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা এবং মূলধারার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্বের সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডও সমর্থকেরা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন।
অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল সাংগঠনিক পরিবর্তন, কার্যক্রমে গতিশীলতা, আর্থিক স্বচ্ছতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তাদের প্রচারণায় সোসাইটিকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার উঠে আসছে।
দুই প্যানেলই বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও কল্যাণের কথা বলছে। কিন্তু প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট, সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য কর্মপরিকল্পনা কতটা রয়েছে, তা ভোটারদের বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটিভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা, জাতীয় দিবস উদ্যাপন, বিভিন্ন সামাজিক আয়োজন এবং বিপদগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কার্যক্রম সংগঠনটির পরিচিত অংশ। তবে এত বড় সদস্যভিত্তিক সংগঠনের কাছ থেকে প্রবাসীদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। বিশেষ করে নতুন অভিবাসীদের আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা, কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, প্রবীণদের সহায়তা, তরুণদের শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়ন এবং মূলধারার সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সোসাইটির আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
প্রবাসীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে, নির্বাচনের সময় হাজার হাজার সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হলে নির্বাচনের পর তাঁদের জন্য নিয়মিত সেবার ব্যবস্থা কেন আরও বিস্তৃত করা যাবে না? নির্বাচনের সময় যে বিপুল অর্থ ও সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে, তার একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে ব্যয় হলে কমিউনিটি কতটা উপকৃত হতে পারত?
অতীতের নেতৃত্বের কাজের মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন প্রাসঙ্গিক। বিগত কমিটিগুলোর ঘোষিত কর্মসূচির কতটি বাস্তবায়িত হয়েছে, কতজন সদস্য সরাসরি উপকৃত হয়েছেন এবং সংগঠনের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের কত অংশ জনকল্যাণে ব্যয় হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে সদস্যরা আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেন।
নির্বাচন ঘিরে আলোচিত ২০ লাখ ডলারের অঙ্কটি নিয়ে কমিউনিটিতে আরেক ধরনের আলোচনা হচ্ছে। এই পরিমাণ অর্থ একটি স্থায়ী কমিউনিটি সেবা তহবিলে থাকলে তা দিয়ে অভিবাসীদের জন্য আইনি পরামর্শ, প্রবীণদের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, চাকরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি কিংবা জরুরি মানবিক সহায়তার মতো একাধিক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতে পারত।
অবশ্য নির্বাচনে ব্যয় হওয়া অর্থের পুরোটাই বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব তহবিল থেকে আসছে না। নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ছাড়া খরচের বড় অংশ প্রার্থী, সমর্থক ও সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থ। তারপরও প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য এত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা একই আন্তরিকতা নিয়ে সদস্যদের সেবায় কতটা সম্পদ, সময় ও সাংগঠনিক শক্তি নিয়োজিত করবেন?
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণাও তত জোরদার হচ্ছে। জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, উডসাইড, ওজোন পার্ক, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসসহ বাংলাদেশি অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় চলছে দুই প্যানেলের সভা, মতবিনিময় ও গণসংযোগ।
প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করছেন, নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছেন এবং সমর্থন চাইছেন। কোথাও নৈশভোজ, কোথাও পরিচিতি সভা, আবার কোথাও স্থানীয় সংগঠন ও কমিউনিটি নেতাদের উপস্থিতিতে সমর্থন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণামূলক ছবি, ভিডিও, বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি প্রচার করছেন।
নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বী সৈয়দের উপস্থিতি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। ফলে এই পদে ভোটারদের সামনে থাকছে তিনটি পৃথক পছন্দ।
এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ। গঠনতন্ত্রের সংশোধন অনুযায়ী, নির্বাচিত কমিটি আগের দুই বছরের পরিবর্তে তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। ফলে নির্বাচিত নেতৃত্বের সামনে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে তিন বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহি, নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে ভোটারসংখ্যা, সাংগঠনিক তৎপরতা ও ব্যয়ের আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য নির্বাচন হয়ে উঠেছে। দুই প্যানেলের প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সমর্থকেরা নিজ নিজ প্যানেলের বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু ২৫ অক্টোবরের ভোট শেষে বিজয়ী হবে একটি নেতৃত্ব। পরাজিত পক্ষও থেকে যাবে একই কমিউনিটির অংশ। আর ৩৫ হাজারের বেশি ভোটারের প্রত্যাশা থাকবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার।
২০ লাখ ডলারের নির্বাচনী ব্যয়ের আলোচনা, হাজারো প্রতিশ্রুতি আর মাসব্যাপী প্রচারণার পর শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে—বাংলাদেশ সোসাইটির জন্য প্রবাসীরা আর কত দেবেন, আর বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসীদের জন্য কতটা দিতে পারবে?
জিপ কোড অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ
বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে নিউইয়র্কের পাঁচটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটারদের আবাসিক এলাকার জিপ কোডের ভিত্তিতে কেন্দ্র নির্ধারণ করে এ-সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, কুইন্সের উডসাইড, ওজোন পার্ক ও জ্যামাইকা, ব্রুকলিন এবং ব্রংকসে একটি করে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রগুলোর নাম ও ঠিকানা হলো-
১. উডসাইড: 58 Manor, 58-02 37th Ave., Woodside, NY 11377,
২. ওজোন পার্ক: Majestic Marquise, 88-03 101st Ave., Ozone Park, NY 11416,
৩. ব্রুকলিন: Kalam's Hall, 96 Church Ave., Brooklyn, NY 11218
৪. ব্রঙ্কস: Golden Palace Banquet Hall, 1451 Unionport Rd., Bronx, NY 10462 এবং
৫. জ্যামাইকা: Angan Party Hall, 89-16 175th St., Suite # CF2, Jamaica, NY 11432.
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটারদের অবশ্যই প্রকাশিত জিপ কোডের তালিকা অনুযায়ী নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দিতে হবে। এক কেন্দ্রের ভোটার অন্য কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না। এ কারণে নির্বাচনের আগেই নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোট দেওয়ার সময় ছবিসংবলিত বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স, স্টেট আইডি, নিউইয়র্ক সিটি আইডি, গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক অথরাইজেশন কার্ড অথবা পাসপোর্ট পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হবে। পরিচয়পত্রে থাকা নাম ও জন্মসাল ভোটার তালিকার তথ্যের সঙ্গে মিলতে হবে।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রের ২০০ ফুটের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা, পোস্টার-ব্যানার লাগানো কিংবা লিফলেট বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মাইক বা অন্য কোনো শব্দসৃষ্টিকারী যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন সতর্ক করেছে।
নির্বাচনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও জিপ কোডভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইট-commission.bangladeshsocietyinc.com থেকে জানা যাবে।
‘সেলিম-আলী’ প্যানেলকে উত্তরবঙ্গবাসীর সমর্থন
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের সমর্থনে নিউইয়র্কে উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্যোগে নির্বাচনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার পরিণীতা পার্টি হলে আয়োজিত সভায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত হয়ে প্যানেলের প্রতি সমর্থন জানান।
নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পাবনা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এ বি এম কামাল পাশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী। বিশেষভাবে সংবর্ধনা জানানো হয় সহসভাপতি পদপ্রার্থী ও উত্তরবঙ্গের সন্তান মো. কামরুজ্জামান কামরুলকে।
সভায় বক্তারা বাংলাদেশ সোসাইটির উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সেলিম-আলী প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। প্রার্থীরা নির্বাচিত হলে সোসাইটির কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন, স্থায়ী কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, নতুন অভিবাসীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মের সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা এবং প্রবীণদের জন্য বিশেষ সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী এনাম, প্রধান সমন্বয়কারী মাকসুদুল হক চৌধুরী, জ্যামাইকা নির্বাচন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল ইসলাম লিপন, ফারুক হোসেন মজুমদার, জে মোল্লা সানি, জহিরুল ইসলাম, কাজী এম আর খান সেলিম, ইসলাম হোসেন শিপন, ফারুক হোসেন ও শামীম হাসানসহ প্যানেলের বিভিন্ন পদপ্রার্থী ও কমিউনিটি নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকেরা আগামী ২৫ অক্টোবর সেলিম-আলী প্যানেলের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের পাশে চট্টগ্রামবাসী
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেলের সমর্থনে নিউইয়র্কের প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর উদ্যোগে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার জেশন পার্টি হলে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন বরো থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন।
চট্টগ্রাম সমিতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান সিরাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সভাপতি পদপ্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী।
চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ এম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন সিরাজীসহ সংগঠনের নেতারা সেলিম-আলী প্যানেলের প্রতি সমর্থন জানান। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন।
সভায় আতাউর রহমান সেলিম ও মোহাম্মদ আলী নির্বাচিত হলে সোসাইটির আধুনিকায়ন, স্থায়ী কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, নতুন অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহায়তা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রবীণদের জন্য কাউন্সেলিং সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুলাল মিয়া এনাম, সিরাজুল ইসলাম লিপন, ফারুক হোসেন মজুমদার, জে মোল্লা সানি, আহসান হাবীব, হাজী শফিউল আলম, মুজিবুর হক, মুক্তাদির বিল্লাহ, আইয়ুব আনসারী, ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, সুমন উদ্দিন, শিমুল বড়ুয়া, হাসান চৌধুরী, সিরাজউদ্দিন সোহাগ, বাসেত রহমান ও আমিনুল ইসলাম স্বপনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
সভায় সেলিম-আলী প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আয়োজকেরা আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে প্যানেলটির পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলকে
বৃহত্তর ঢাকাবাসীর সমর্থন
বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের স্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী বৃহত্তর ঢাকাবাসী। গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের উডসাইডে কুইন্স প্যালেসে বৃহত্তর ঢাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা প্যানেলটির প্রার্থীদের যোগ্য উল্লেখ করে আগামী ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁদের বিজয়ী করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্যানেলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ এ আখতার বৃহত্তর ঢাকার সন্তান হওয়ায় তাঁদের ঘিরে সভায় বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। দুলাল বেহেদু বর্তমানে বৃহত্তর ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
সভায় দুলাল বেহেদু বলেন, ‘সোসাইটির নির্বাচনে আমি জয়ী হই বা না হই, সোসাইটির পাশে থাকবো, কমিউনিটির পাশে থাকবো এবং শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো। এটি আমার ওয়াদা।’
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজিজ। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সংগঠক ও ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম উপদেষ্টা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।
মোহাম্মদ আজিজ বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান নেতৃত্ব ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, সোসাইটিকে শক্তিশালী করতে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু তাঁর ও প্যানেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর গুঞ্জন কিংবা পরিবারের সমর্থন না থাকার প্রচারণা সঠিক নয়। জিল্লুর রহমান জিল্লুর সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আজমল হোসেন কুনু বলেন, ‘আমরা অপপ্রচারে বিশ্বাসী নই, কাজে বিশ্বাসী। যা বলবো, তা-ই করবো।’ নির্বাচিত হলে সোসাইটির অর্থের অপচয় না করে প্রয়োজনীয় কাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচিত হলে ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠা হবে তাঁদের প্রথম কাজ।
সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেন, তাঁরা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়ে তুলতে চান। নতুন অভিবাসীদের চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চলাচল চালুর লক্ষ্যে কাজ করা এবং প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। নতুন প্রজন্মকে সোসাইটির কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন ফিরোজ আহমেদ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা, সাভার উপজেলা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আমানুল্লাহ আমান। আরো বক্তব্য দেন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শেখ সালাউদ্দিন খোকন, মুক্তিযোদ্ধা আজাদ হোসেন, মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি শাহাদৎ হোসেন, ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন সেলিম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট নূর আমিন, মিজানুর রহমান মিজান ও সৈয়দ এ আর ফারুক। সভা যৌথভাবে পরিচালনা করেন আসাদ জামান ও আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব সেলিম ইব্রাহীম।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আলাউদ্দিন ভুলু, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রব মিয়া, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল ও জামাল আহমেদ জনি, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি বদরুন নাহার খান মিতা, সংগঠনটির একাংশের সভাপতি মইনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন এবং কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ও মূলধারার রাজনীতিক শেখ শাহজাহান। এ ছাড়া বাংলাদেশ সোসাইটি ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন। সভাপতি পদে আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে দুলাল বেহেদু, সহ-সভাপতি পদে আবুল কালাম ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরোজ আহমেদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক পদে সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক পদে মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক পদে মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদে বেগম এম চৌধুরী এবং যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে কাজী আর হাসান। কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিরাজ উদ্দিন হক, মোহাম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাশার, মাসুদুল হক ছানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।
সভায় বৃহত্তর ঢাকাবাসীর পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস এবং বাফেলো থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কাজী মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন বিমল চন্দ্র বর্মণ।