বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• মানিকগঞ্জে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন • আমরা শেখ হাসিনাকে হ্যান্ডওভার চাই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির • দেশে ডেঙ্গুতে আরো ৭ জনের মৃত্যু • ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ • আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো • এআই যেন বেকারত্বের সংকট আরও না বাড়ায়, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি • অভিশংসনের উদ্যোগ নিলে ডেমোক্র্যাটদের নিশ্চিহ্ন করে দেব: ট্রাম্প • বন্ধুকে হত্যায় কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড • আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি • শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষে বাংলাদেশ, এবার কঙ্গো গেলেন বিমান বাহিনীর ১১১ জন

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
মামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি, সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

শুধু নির্বাচন নয়, প্রশ্নের মুখে সোসাইটির ভবিষ্যৎ

দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে প্রার্থীরা
শুধু নির্বাচন নয়, প্রশ্নের মুখে সোসাইটির ভবিষ্যৎ

বিজ্ঞাপন
আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর বাংলাদেশ সোসাইটির সংকট এখন ভোটের নতুন তারিখ নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সদস্যপদ ও প্রার্থিতার বিরোধ, আদালতে পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং সমঝোতার শর্ত নিয়ে অনঢ় মনোভাব সংগঠনটিকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রায় ৩৫ হাজার ভোটার ও ৪৩ জন প্রার্থীর অপেক্ষার সঙ্গে সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন-প্রবাসীদের ঐক্যের ছাতা হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি এই বিরোধ থেকে কীভাবে বের হবে? নির্বাচন ও মামলা ঘিরে বিপুল অর্থ, সময় ও সাংগঠনিক শক্তি ব্যয় হতে থাকলে সংগঠনের প্রতি আস্থা এবং আগামী প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে?
এই পরিস্থিতিতে ৪ নভেম্বর বুধবার যৌথসভা ডেকেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সভায় ট্রাস্টি বোর্ড, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দুই প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাঁচজন করে প্রতিনিধি অংশ নেবেন। মামলার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাব্য সমাধান এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হবে। আলোচনার সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি আদালতে মামলা মোকাবিলার প্রস্তুতিও চলবে।
তবে আলোচনায় বসার উদ্যোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে সমঝোতার পথ এখনো কঠিন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বৃহত্তর স্বার্থে সব পক্ষকে ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ বলেছেন, বাদীর বর্তমান সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া ও এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবি মানা হবে না। অন্যদিকে মামলার বাদী ওসমান চৌধুরী জানিয়েছেন, কারও অনুগ্রহের ভিত্তিতে সমাধান নয়, আদালতেই নিজের দাবির ফয়সালা চান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তফসিল অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কুইন্স, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস, জ্যামাইকা ও ওজোন পার্কে পাঁচটি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছিল। ভোটের প্রস্তুতি ও প্রচারণার শেষ পর্যায়ে ২৩ অক্টোবর কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্টের সাময়িক নিষেধাজ্ঞায় নির্বাচন স্থগিত হয়। 
ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না পাওয়ার বিরোধে মামলাটি করা হয়। বিচারপতি চেরি এ বাগসের স্বাক্ষরিত সাময়িক আদেশে নির্বাচন আয়োজন, ভোট গ্রহণ, ব্যালট গণনা ও ফলাফল প্রত্যয়ন বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যানসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকা এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যপদ ও নির্বাচনী নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়। 
প্রথমে ৫ নভেম্বর শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল। পরে তা ১৭ ডিসেম্বর করা হয়েছে বলে বাদী ওসমান চৌধুরী তাঁর আইনজীবীর বরাতে জানিয়েছেন। তবে শুনানির দিন নির্ধারিত থাকার অর্থ ওই দিনই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা নির্বাচনের অনুমতি মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। 
সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কোনো পক্ষের চূড়ান্ত জয় বা পরাজয় হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই। আদালত এই পর্যায়ে ওসমান চৌধুরীকে সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করেননি কিংবা মামলার সব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করেননি। 
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ঠিকানাকে বলেন, মামলার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, “নিষ্পত্তি হলে এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন দেব। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।”
আদালতের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে তার প্রভাব সংগঠনের ওপর পড়বে বলে মনে করেন তিনি। আবু নাসের বলেন, আদালতে মামলা নিষ্পত্তি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। অতীতেও মামলার কারণে সোসাইটির অনেক ক্ষতি হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ, বিরোধের কারণে অনেকে সোসাইটির নাম শুনেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন; অথচ সংগঠনটি প্রবাসীদের কার্যকর আমব্রেলা সংগঠন হয়ে উঠতে পারত।
সমাধানের জন্য উভয় পক্ষের নমনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হোক, এটা চাই। এজন্য সব পক্ষকে ছাড় দিতে হবে। তা না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।”
তবে সদস্যপদসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সীমিত বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ট্রাস্টি বোর্ড ও কার্যকরী কমিটি কীভাবে সমস্যার সমাধান করবে, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থী-ভোটারদের স্বার্থের বিষয়টি সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে।
আবু নাসের বলেন, “আমি এখন ৪৩ জন প্রার্থী ও ৩৫ হাজার ভোটারের অভিভাবক। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে আমি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাব।”
ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ঠিকানাকে জানান, ওসমান চৌধুরী তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। শাহ নেওয়াজের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বাদীর আস্থার সংকট রয়েছে।
তিনি বলেন, ওসমান চৌধুরীর দুটি শর্ত হচ্ছে সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। এই দুটি দাবি বর্তমান অবস্থায় মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
তবে বিকল্প সমঝোতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন শাহ নেওয়াজ। তিনি বলেন, মামলা করতে বাদীর যে খরচ হয়েছে, তা দেওয়ার প্রস্তাব করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে তাঁর সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া যেতে পারে।
তাঁর বক্তব্য, এই প্রস্তাবে সমাধান না হলে আদালতে আইনি লড়াই চলতে পারে।
শাহ নেওয়াজের এই অবস্থানে আলোচনার একটি সম্ভাব্য কাঠামো পাওয়া গেলেও মূল বিরোধ রয়ে যাচ্ছে সদস্যপদ পুনর্বহালের সময় এবং বর্তমান নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে। ভবিষ্যতে সদস্যপদ দেওয়ার প্রস্তাব বাদীর এবারের প্রার্থিতার দাবি মেটাচ্ছে না।
মামলার বাদী ওসমান চৌধুরী ঠিকানাকে বলেন, “আমি কারও বা কোনো পক্ষের করুণা নিয়ে আলোচনায় বসতে চাই না। আমি আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। আদালতেই মামলার ফয়সালা হবে।”
তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আমার নামে অপপ্রচার চালিয়ে লাভ নেই। যারা আমার নামে অপপ্রচার করছে, পারলে আমার সামনে এসে বলুক।”
মামলাকে আকস্মিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে ওসমান বলেন, “আমি হঠাৎ করে মামলা করিনি। গত আট বছর ধরে আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়েছে।”
মামলা দীর্ঘ হলে বর্তমান কমিটির দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন আটকে থাকলেই বর্তমান কমিটি অনির্দিষ্টকাল দায়িত্ব পালন করে যাবে, এমন সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সক্রিয় সদস্যদের কেউ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। ফলে বর্তমান বিরোধের পাশাপাশি কমিটির মেয়াদ ও দায়িত্বের প্রশ্নেও নতুন আইনি জটিলতার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। 
নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচার-প্রচারণাসহ এবারের নির্বাচন ঘিরে প্রায় ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের কথা ওপেন সিক্রেট। নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের ব্যয়, দুই প্যানেলের প্রচারণা, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত খরচ এবং সমর্থকদের ব্যয় এক বিষয় নয়। কোন খরচ ফেরত পাওয়া যাবে, কোন সেবা পুনর্নির্ধারণ করা যাবে এবং নতুন তারিখে ভোট হলে কত অতিরিক্ত অর্থ লাগবে, তার ওপর প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করবে।
একটি সূত্র জানায়, কমিশনের প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং দুই প্যানেলের সম্মিলিত প্রায় পাঁচ লাখ ডলার ব্যয় বা ক্ষতির পৃথক অনুমান এসেছে। ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাপকতা বোঝা গেলেও মোট ব্যয় ও স্থগিতজনিত ক্ষতির নির্ভরযোগ্য চিত্র পেতে বিস্তারিত হিসাব পেতে আরো সময় লাগতে পারে। 
নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন ফি-তালিকাতেও নির্বাচনের আর্থিক পরিসর বোঝা যায়। সভাপতি পদে ছয় হাজার ডলার, সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি পদে পাঁচ হাজার ডলার করে এবং কার্যকরী সদস্য পদে দেড় হাজার ডলার করে ফি নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনী বিধিতে বাজেট দেওয়া এবং নির্বাচনের পর হিসাব ও অন্যান্য উপকরণ হস্তান্তরের ব্যবস্থাও রয়েছে। 
এই বিপুল অর্থ ও সাংগঠনিক তৎপরতার বিপরীতে সদস্যরা কী সেবা পাচ্ছেন এবং নির্বাচনের বাইরেও তাঁদের সঙ্গে সংগঠনের সম্পর্ক কতটা সক্রিয় থাকছে, সোসাইটির ভবিষ্যৎ মূল্যায়নে সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক ছাতার নিচে আনার উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ল হলে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা এবং প্রবাসীদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো সংগঠনটির ঘোষিত লক্ষ্যের অংশ। 
প্রতিষ্ঠার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে তাই প্রশ্নটি শুধু কতজন সদস্য হয়েছেন বা নির্বাচনে কত অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা নয়। বিভিন্ন অঞ্চল, পেশা ও প্রজন্মের প্রবাসীদের কাছে সোসাইটি কতটা প্রয়োজনীয় এবং সবার আস্থার প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ সোসাইটি কার্যকর আমব্রেলা সংগঠন হয়ে উঠতে পারত, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এই মন্তব্যের মধ্যেই প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান ধরা পড়ে। বড় ভোটার তালিকা সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দিলেও তা একাই সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ নয়। সেই গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় ধারাবাহিক সেবা, জবাবদিহি, অংশগ্রহণের সুযোগ এবং বিরোধ ন্যায্যভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে।
যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি তরুণদের জন্য ভাষা-সংস্কৃতির চর্চার পাশাপাশি শিক্ষা, পেশাগত যোগাযোগ, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সোসাইটির পরিচয় যদি বারবার নির্বাচন, বিরোধ ও মামলার মধ্যেই আটকে যায়, তবে ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার কাজ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে।
এটি শুধু ভবিষ্যতের ভোটার তৈরির বিষয় নয়। আগামী দিনের নেতৃত্ব, স্বেচ্ছাসেবক, পেশাজীবী ও দাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ারও প্রশ্ন। বর্তমান নেতৃত্বের বিরোধের মূল্য যেন পরবর্তী প্রজন্মের বিচ্ছিন্নতা দিয়ে দিতে না হয়, সেই বিবেচনাও সমাধানের আলোচনায় থাকা প্রয়োজন।
৪ নভেম্বর বুধবারের যৌথসভা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করার একটি সুযোগ। তবে সভার সুপারিশ নিজে থেকে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেবে না। সমঝোতা হলে তার শর্ত বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আদালতের কার্যকর নির্দেশ মানতে হবে।
আপাতত তিনটি অবস্থান স্পষ্ট- নির্বাচন কমিশন দ্রুত সমাধান ও ভোট চায়; ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট শর্তে আপসের সম্ভাবনা রাখছেন; বাদী তাঁর অধিকারসংক্রান্ত দাবির নিষ্পত্তিতে আদালতের ওপর আস্থা রাখছেন। এই অবস্থানগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পাওয়া না গেলে অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। 
সোসাইটির সামনে তাই চ্যালেঞ্জ দুটি: আইন ও গঠনতন্ত্রের আলোকে বর্তমান বিরোধের নিষ্পত্তি করা এবং একই সঙ্গে সদস্যদের আস্থা ধরে রাখা। ৩৫ হাজার ভোটারের ভোটাধিকার, প্রার্থীদের শ্রম ও ব্যয় এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সবই এর সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচন আবার আয়োজন করা সম্ভব; কিন্তু বিরোধ দীর্ঘ হলে সংগঠনের প্রতি হারানো আগ্রহ ও আস্থা ফিরিয়ে আনা আরও কঠিন হতে পারে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz