মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৩৬
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি : সংগৃহীত
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দুটি আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আইন দুটি হলো— ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’ এবং ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’। ২ নভেম্বর (সোমবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের ২৬তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া উপস্থাপন করা হয়। বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রমের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিত করতে এর আগে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছিল।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ দফার অধীনে জারি করা অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একই অনুচ্ছেদের ২ দফার বিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশটিকে সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
অন্যদিকে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সম-আচরণ ও অবাধ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায়ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উদ্যোগে তৈরি খসড়াটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রেও লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ক্রয়ের মূল আইনি কাঠামো হিসেবে ২০০৬ সালে প্রণীত ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন’ এ পর্যন্ত ছয় দফায় সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারির মাধ্যমে আইনটিতে পরিবর্তন আনা হয়।
দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়ে আরও বেশি প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ওই অধ্যাদেশে বেশ কিছু নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে নতুন, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী দরপত্রদাতা এবং সুযোগবঞ্চিত দরপত্রদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির কার্যপ্রণালি আধুনিকায়ন, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সীমিত দরপত্র পদ্ধতির অধিকতর প্রয়োগ, পেশাগত অসদাচরণ-সংক্রান্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ এবং রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ক্রয়ব্যবস্থা (অলটারনেটিভ প্রকিউরমেন্ট অ্যারেঞ্জমেন্ট) চালুর বিধান রাখা হয়েছে।