প্রতিবছর গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো দেশে বেড়াতে যাওয়ার ধারাবাহিকতায় এ বছর আমার ও দুই শ্যালকের পরিবার মিলে গত ৩১ আগস্ট ইউরোপের বিখ্যাত আল্পস পর্বতমালা দেখতে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দর থেকে আমেরিকান এয়ারলাইনসের সন্ধ্যা সাতটার ফ্লাইটে ইতালির মিলানের উদ্দেশে যাত্রা করি। আমার পরিবারে স্ত্রী, কন্যা, পুত্র, পুত্রবধূ ও তাদের দেড় বছর বয়সী পুত্র এবং দুই শ্যালকের একজনের স্ত্রী ও পুত্র, কন্যা এবং অপর শ্যালক ও তার স্ত্রী এই সফরে আমাদের সঙ্গী। ফ্লাইট যথাসময়ে ছেড়ে পরদিন ইতালি সময় সকাল সোয়া আটটায় মিলান বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে। বিমানের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই রৌদ্রকরোজ্জ্বল সকালে দূরে ইতালিয়ান আল্পসের আবছা দৃশ্য নজরে পড়ে, যেমনটি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ময়মনসিংহ শহরের গাঙ্গিনারপার সড়ক থেকে হালুয়াঘাট-মেঘালয় সীমান্তের গারো পাহাড়ের আবছা দৃশ্য দেখা যায়।
বিমান থেকে নেমে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সেরে বিমানবন্দরে অবস্থিত ‘বাজেট’ রেন্টাল কার কোম্পানির অফিস থেকে তিনটি গাড়ি ভাড়া করে আমরা প্রায় দুই ঘণ্টার ড্রাইভে ইতালিয়ান আল্পসের অ্যায়োস্তা (Aosta) ভ্যালি এলাকার পিলা স্কি স্কাই (Pila Ski Sky) রিসোর্টে পৌঁছাই। টিকিট কেটে ইতালিয়া আল্পস পর্বতমালা কাছে থেকে দেখতে ক্যাবল কারে উঠে প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচুতে পিলা স্টেলা ক্যাবল কার স্টপেজে নামি। সেখানকার ভ্যালির ঘেরা চত্বর থেকে ইতালি অংশের আল্পসের ম্যাটারহর্ন, মন্টরোসা, মন্ট ব্লাংক ও গ্র্যান্ড প্যারাডিসো পর্বতমালার দৃশ্য অবলোকন করি। এর মধ্যে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৫ হাজার ৭৭৪ ফুট উচ্চতার মন্ট ব্লাংক ইউরোপিয়ান আল্পসের সর্বোচ্চ পর্বত। তথ্যমতে, হিমালয়ের এভারেস্ট ও অন্যান্য উঁচু পর্বতশৃঙ্গ জয় করতে বিভিন্ন সময়ে অনেক দেশের বহু পর্বতারোহী যেভাবে সচেষ্ট ছিলেন, তেমনিভাবে ইউরোপিয়ান আল্পসের পর্বতমালা জয়েও পর্বতারোহীরা চেষ্টার ত্রুটি করেননি। এর মধ্যে ইতালি-সুইস সীমান্তের ১৪ হাজার ৬৯৭ ফুট উঁচু ম্যাটারহর্ন পর্বতশৃঙ্গ ১৮৬৫ সালে এডমন্ড হুইম্পারের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ পর্বতারোহী জয় করেন। এটা করতে দলের ৪ জন পর্বতারোহী প্রাণ হারান।
সেপ্টেম্বর মাসের এ সময়ে পর্বতে জমে থাকা হিমবাহের (Glaciev) বহুলাংশ গলে পানি হয়ে বিভিন্ন পথে নিচে চলে গেলেও পর্বতের এখানে-সেখানে এ সময়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বেশ কিছু হিমবাহ রয়ে গিয়েছিল, যা দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিল। মহিলারা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে পর্বতমালাকে ব্যাকড্রপে রেখে ছবি তোলায় ব্যস্ত সময় পার করে, যা চারপাশের দৃশ্যাবলি দেখে তাদের মুগ্ধতার প্রমাণ দেয়। পর্বতমালার নিচের দিকের প্রায় সকল অংশ ঝাউবন দিয়ে আচ্ছাদিত হলেও উপরের দিক ছিল বহুলাংশে প্রস্তরময়, রুক্ষ ও বৃক্ষরাজিশূন্য, যেটা সেসব স্থানে মাটির স্তর না থাকায় হয়েছে বলে জানতে পারি। ইতালিয়ান আল্পস পর্বতমালা দেখা শেষ করে ক্যাবল কারে নিচে নেমে আসি। এই যাওয়া-আসার সময় ব্যয়িত হয় প্রায় আধা ঘণ্টা। পিলা স্কি স্কাই রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে এসে নিকটবর্তী গ্র্যান্ড হোটেল কোরমায়োর মন্ট ব্লাংকে (Grand Hotel Courmayeur Mont Blanc) আসি, যে হোটেলে আমাদের ভ্রমণের ৭ দিন থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হোটেলটি আল্পস পর্বতমালার ঠিক পাদদেশে অবস্থিত। হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার ভেরোকিনা আমাদের আসার খবর আগে থেকে বলে রাখায় আমাদের গাড়ি হোটেল প্রাঙ্গণে আসা মাত্রই রিসেপশন থেকে দুজন কর্মী আমাদেরকে হোটেলে স্বাগত জানাতে ছুটে আসেন। পরে হোটেলের একজন তরুণী কর্মী আমাদের যার যার কক্ষে নিয়ে গিয়ে চাবি বুঝিয়ে দিয়ে ডিনারে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে বিদায় নেয়। বলা বাহুল্য, আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে হোটেল কর্মীদের এহেন আন্তরিকতা দেখে আমরা বেশ মুগ্ধ হই।
সামারের এই সময়ে (জুন থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত) আল্পস পর্বতমালার পাদদেশ এলাকায় মোটামুটি ঠান্ডাবোধ হলেও (৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্বত থেকে কিছুটা দূরে তাপমাত্রা ৭০ থেকে ৮০ ডিগ্রির মধ্যে থাকে, যা আমাদের জন্য বেশ আরামদায়ক হয় বলা যায়। এ সময়ে মাঝেমধ্যে বৃষ্টির নজির থাকলেও সৌভাগ্যবশত আমাদের অবস্থানকালীন পুরো সময়টা ছিল বৃষ্টিবিহীন রোদেলা, যা আমাদের ভ্রমণকে বেশ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিশেষ সহায়ক হয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, আল্পস পর্বতমালা ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে বিস্তৃত, যা এই মহাদেশের ৮টি দেশ ছুঁয়ে গেছে। দেশগুলো হলো ইতালি, ফ্রান্স, মোনাকো, লিশটেনস্টাইন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও স্লোভেনিয়া, যদিও আমাদের এবারের সফর ইতালি, ফ্রান্স ও সুইস আল্পস দেখার মধ্যেই সীমিত ছিল। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আল্পস পর্বতমালা এলাকায় স্কি সিজন, যে সময় এলাকার সব হোটেল-মোটেল সারা বিশ্ব থেকে আগত স্কি খেলোয়াড় ও তাদের সঙ্গী-সাথিদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে। এর বাইরে বহু মানুষ আসেন আল্পসের সমগ্র অংশজুড়ে জমে থাকা সফেদ হিমবাহ বা গ্লেসিয়ারের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
পরদিন ১ সেপ্টেম্বর আমরা সবাই হোটেলের সুপরিসর ব্রেকফাস্ট লাউঞ্জে এলে সেখানে কর্মরত হোটেল কর্মীরা আমাদেরকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়ে আমাদের পছন্দের খাবার টেবিলে দিয়ে যায়, যদিও বুফে সিস্টেম হওয়ায় আমাদের খাবার আমাদেরই নিয়ে আসার কথা ছিল। সম্ভবত সংখ্যায় বেশি ও আমেরিকা হওয়ার কারণে আমাদের প্রতি একটু বেশি আতিথ্য দেখানো হয়। জেনারেল ম্যানেজার ভেরোনিকার পরামর্শের কারণেও এটা হতে পারে বলে ধারণা করি। কফি খেতে খেতে আমার নাতিকে তার মায়ের সঙ্গে খেলায় ব্যস্ত থাকতে দেখি। এ সময় ফেদেরিকা নামের একজন হোটেল কর্মী (বয়স ৩৫-৪০) আমার কাছে এসে হেসে তারও ১৫ বছর বয়সী এক পুত্র রয়েছে বলে জানায়। সে বিবাহিত নয়, এটাও জানায়। তবে অচিরেই সে তার বয়ফ্রেন্ডকে বিয়ে করতে যাচ্ছে বলে জানায় এবং বয়ফ্রেন্ডটি তরুণীর ছেলের পিতা নয়। ছেলের পিতাকে বিয়ে করলে পিতা ছেলের সার্বক্ষণিক সঙ্গ পেত এবং ছেলেও পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হতো না, কথাটি আমি বলতে চেয়েও তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অনধিকার চর্চা হবে মনে করে চেপে যাই। এর পর থেকে ফেদেরিকা প্রতিদিন আমাদের ব্রেকফাস্টের বিষয়টা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দেখভাল করে। সেলফি নামের আরেকজন কর্মীও এ কাজে তাকে সহায়তা করে। তাদের দুজনের অমায়িক আচরণ আমাদের বহুদিন মনে থাকবে।
ব্রেকফাস্ট সেরে হোটেল-সংলগ্ন এন্ট্রেভাস এলাকার মন্টে বিয়াংকোতে (Monte Bianco) গাড়ি পার্ক করে অত্যাধুনিক ক্যাবল কার সিস্টেমে আরোহণ করে আরও উপরের দিক থেকে আল্পস পর্বতমালা দেখতে ২ হাজার ১৭৩ মিটার উঁচুতে অবস্থিত ‘Du Mont Fretty’ প্যাভিলিয়নে আসি। এখানে আসার পর Altitude ইস্যুর কারণে কিছুটা শ্বাসকষ্টবোধ করায় আমাদের দুজন আরও উপরের দিকে না যেতে মনস্থির করে। কিছু পরে তাদের এ সমস্যা দূর হয়ে গেলে আমরা তাদের ছাড়াই ৩ হাজার ৪৬৬ মিটার উঁচুতে ক্যাবল কারের শেষ স্টপেজ পুন্ট হেলব্রনারে (Punt Helbronner) আসি। এখানে আমরা ইতালি, ফ্রান্স ও সুইস আল্পসের একটা বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সফেদ গ্লেসিয়ারের সুতীক্ষ্র পর্বতশৃঙ্গের দেখা পাই। পুন্ট হেলব্রনারে পৌঁছার পথে একাধিক পর্বতের গা ঘেঁষে কয়েকজন দুঃসাহসী পর্বতারোহীকে রশি বেয়ে পর্বতারোহণের চেষ্টায় রত থাকতে দেখি, যা আমাদের মনে একধরনের রোমাঞ্চ ও ভয়ের শিহরণ সৃষ্টির পাশাপাশি পর্বতারোহীরা কীভাবে পর্বতারোহণ করে, তার একটি ধারণা দেয়। Panoromic Mont Blanc সফরের এই পর্বটি আমাদের বহুদিন মনে থাকবে। পরদিন ২ সেপ্টেম্বর যথারীতি প্রাতরাশ সেরে প্রায় দুই ঘণ্টার ড্রাইভে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সড়ক টানেল ‘Tunnel Du Mont’ (প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ) পার হয়ে ইতালি-ফ্রান্স সীমান্তে অত্যন্ত নয়নাভিরাম ফরাসি শহর শ্যামোনি (Chamonix) আসি। এখানে Mont Verse থেকে দুই বগির লাল রেল ট্রেনে চড়ে বেশ কাছে থেকে ফ্রেঞ্চ আল্পস দেখি। উল্লেখ্য, বিশ্বের দীর্ঘতম সড়ক টানেলটি নরওয়েতে অবস্থিত। বেশ কিছু মানুষকে প্যারা গ্লাইডিং ও হেলিকপ্টারে করে পর্বতমালা দর্শন করতে দেখা যায়। এখান থেকে শ্যামোনি সিটি সেন্টারের একমাত্র হালাল ভারতীয় রেস্তোরাঁ অন্নপূর্ণায় দেশি খাবার দিয়ে উদরপূর্তি করে আইসক্রিম খেতে নিকটবর্তী এক আইসক্রিম পার্লারে (Mera De Glaces) যাই। পার্লারের অদূরে খালসদৃশ আর্ভে (Arve) নদী দিয়ে মন্ট ব্লাংক পর্বতের হিমবাহ-গলা পানি প্রবল বেগে বয়ে যেতে দেখি। এই নদীটি জেনেভার রোন (Rhone) নদীতে গিয়ে মিশেছে বলে জানতে পারি। পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের বিখ্যাত অ্যানেসি লেকে (Annecy Lake) বোট রাইডের জন্য সেই শহরে যাই। প্রায় দুই ঘণ্টার ড্রাইভ শেষে শহরে পৌঁছে এক জনাকীর্ণ কফিশপে কফি পান করে বোট রাইডের জন্য লেকের পাড়ে লাইনে দাঁড়াই। কিছুক্ষণ পর অনেকটা ইয়াট (yacht) সদৃশ বিশাল বোটে উঠে লেকের পাশের আল্পস পর্বতমালা ও অ্যানেসি শহর দেখি। দেড় ঘণ্টার এই বোট রাইড ছিল অত্যন্ত উপভোগ্য। পর্বতমালা থেকে আসা লেকের পানিতে ভাসমান পাথরের চূর্ণের ওপর সূর্যের আলো পড়ায় লেকের পানি নীল সবুজাভ বর্ণ (Emerald) ধারণ করে, যা দেখতে ছিল অত্যন্ত সুন্দর। বোট রাইড শেষে শহর কেন্দ্রের এক রেস্তোরাঁয় ভোজন পর্ব সেরে নিকটবর্তী একটি পার্কে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরির পর পার্ক-সংলগ্ন একটি ব্রিজে ছবি তোলার জন্য আসি। ব্রিজের রেলিংয়ে বেশ কয়েকটি তালা (Padlock) ঝুলতে দেখে এর রহস্য জানার চেষ্টা করি। প্রচলিত ধারামতে, ব্রিজে উঠে প্রেমিক যুগল বা দম্পতি চুম্বন করলে তাদের সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয়। বন্ধ তালা তাদের প্রত্যাশিত চির অটুট ভালোবাসার সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
৪ সেপ্টেম্বর আমরা সুইস আল্পসকে সুইজারল্যান্ডের মাটি থেকে দেখতে প্রায় আড়াই ঘণ্টার ড্রাইভে সুইস শহর ভেরবিয়ে (Verbier) যাই। পথে অ্যায়োস্তা ভ্যালি এলাকায় রোমান ধ্বংসাবশেষ (Roman Ruins) নজরে পড়ে। সেখানে দেয়াল (Terrace) ঘেরা একটি দুর্গ দেখতে পাই, যা দেখে আমরা কিছু সময়ের জন্য রোমান যুগে ফিরে যাওয়ার অনুভূতি বোধ করি। ভেরবিয়ে যেতে সুদীর্ঘ সেইন্ট বার্নার্ড টানেল অতিক্রম করতে হয়। শোনা যায়, এ পথে জুলিয়াস সিজার, নেপোলিয়ান বোনাপার্ট একাধিকবার যাতায়াত করেন। সুইস আল্পসের পাদদেশে বহুসংখ্যক চারণভূমি দেখতে পাই, যদিও সেসব চারণভূমিতে একটিমাত্র ঘোড়া ছাড়া অন্য কোনো পশুকে চারণ করতে দেখা যায়নি। ইতালিয়ান ও ফ্রেঞ্চ আল্পসে এ ধরনের সবুজ চারণভূমি খুব একটা দেখা যায়নি। ভেরবিয়ে শহরের অধিকাংশ ঘরবাড়ি চকচকে বার্নিশ করা কাঠের তৈরি, যা শহরের সৌন্দর্যকে এক অন্য মাত্রা দেয় বলে মনে হয়। শহরের এক ছিমছাম রেস্তোরাঁয় লাঞ্চ করে নিকটবর্তী এক চকলেটের দোকান থেকে (Galleria Chocolate de Verbier) সবাই চকলেট কিনে পড়ন্ত বিকেলে হোটেলে ফিরি। পরে ৭ সেপ্টেম্বর হোটেলের আশপাশে দু-তিনটি স্থানে, যেমন ভেনভেলি, ভেলফেরে ও কোরমায়োয় ঘোরাফেরা করে সময় কাটাই।
৮ সেপ্টেম্বর সপ্তাহব্যাপী ইউরোপিয়ান আল্পস সফর শেষে সকাল ১১টার আমেরিকা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে নিউইয়র্কে ফিরে আসি। ইউরোপিয়ান আল্পস সফর ছিল আমাদের সবার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা, যা আমরা বিপুলভাবে উপভোগ করেছি। ঘরে ফিরে সফরটি নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে সুসম্পন্ন করতে পারায় সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে শোকর গোজর করি। সফরে যাওয়ার পূর্বে বাংলা ধন্যবাদ শব্দের ইতালিয়া ও ফ্রেঞ্চ প্রতিশব্দ যথাক্রমে Grazie I Merci শিখে যাওয়ায় তা পুরো সফরে ভালো কাজ দেয়। সবশেষে পুরো সফরকালে আমার হুইলচেয়ার কষ্ট করে ঠেলে সাহায্য করায় আমার দেড় বছর বয়সী নাতিসহ সবাইকে ধন্যবাদ না জানালে মহা অন্যায় হবে। সে জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।
লেখক : কলামিস্ট