সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি, না ফেরার দেশে অভিনেতা • পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ-আগুন : ৪ মামলায় আসামি ১০ হাজার • ২২৩ টাকা বাড়ল ১২ কেজি এলপিজির দাম • ব্রুকলিন থেকে নিউইয়র্কের ক্ষমতার কেন্দ্রে: লেটিশিয়া জেমসের সংগ্রাম ও সাফল্য • নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ফিরতে লেটিশিয়া জেমসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি • অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসী অধিকার ও আবাসন সুরক্ষায় অগ্রাধিকার লেটিশিয়া জেমসের • স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হবেন কারা, জানালেন রিজভী • দেশে ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে ৪৩৩, অক্টোবরেই নিহত ১৭৪ • জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির • মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ মঙ্গলবার

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ফিরতে লেটিশিয়া জেমসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ফিরতে লেটিশিয়া জেমসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি

বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া এ. জেমস। তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এবং ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টির মনোনীত প্রার্থী। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান ও কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী সারিথা কোমাটিরেড্ডি। এখন আগাম ভোট চলছে। ২৪ অক্টোবর থেকে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর পর্যন্ত তা চলে। ২ নভেম্বর ভোটের বিরতি রয়েছে। তিন নম্বর সাধারণ ভোট হবে। সকল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। তিনি নির্বাচনী অবস্থানে ভাল অবস্থানে অবস্থান করছেন। সরিতা কোমাটিরেড্ডি তার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী। তিনি রিপাবলিকান ও কনজারভেটিভ দলের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। 
নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনবিষয়ক ওয়েবসাইট এনওয়াইসি ভোট -এ প্রকাশিত প্রার্থী পরিচিতি ও নির্বাচনী অঙ্গীকারে লেটিশিয়া জেমস সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আবাসন খাতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকে তাঁর প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জেমস বলেছেন, সাধারণ নিউইয়র্কবাসীর অধিকার রক্ষায় তিনি তাঁর পুরো কর্মজীবন ব্যয় করেছেন। ক্ষমতাধর করপোরেশন, দুর্নীতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক এবং জনগণের স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে তিনি কাজ করেছেন। পুনর্র্নিবাচিত হলে নিউইয়র্ককে আরও সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।
অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এর ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণকে নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন জেমস। তাঁর দাবি, ২০১৯ সাল থেকে তাঁর দপ্তরের উদ্যোগে নিউইয়র্কের রাস্তাঘাট থেকে প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র সরানো হয়েছে। একই সময়ে সংগঠিত অপরাধ ও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকটি চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং শত শত মাদক পাচারকারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তিনি মনে করেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র, মাদক পাচার এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ প্রয়োজন।
আবাসন ব্যয় ও বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহিতার কথাও বলেছেন। নিউইয়র্কের আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়ার উচ্চ ব্যয় মোকাবিলায়ও বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল।
জেমসের দাবি, তাঁর দপ্তর দলিল জালিয়াতি ও বাড়ির মালিকানা আত্মসাতের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, অনিরাপদ আবাসন পরিস্থিতি সংশোধনে বাড়িওয়ালাদের বাধ্য করেছে এবং শত শত অ্যাপার্টমেন্টকে পুনরায় ভাড়া নিয়ন্ত্রণের আওতায় ফিরিয়ে এনেছে।
এ ছাড়া হাউজিং ভাউচার ব্যবহারকারী ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বন্ধে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আবাসন সাশ্রয়ী করতে অসাধু বাড়িওয়ালাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তা অধিকার রক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও করপোরেট অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থানকে নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছেন জেমস।
তিনি জানিয়েছেন, ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণাকারী বিভিন্ন করপোরেশনের কাছ থেকে তাঁর দপ্তর ৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি খাতের একচেটিয়া ব্যবসায়িক প্রভাবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈধ উল্লেখ করে তা বন্ধের জন্য মামলা করার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারে একচেটিয়া ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেইড সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সাশ্রয়ী চিকিৎসার সুযোগ এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেমস। তাঁর দাবি, ওপিওয়েড বা আসক্তি সৃষ্টিকারী ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তাঁর দপ্তর ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে।
এ ছাড়া অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ), মেডিকেইড, প্ল্যানড প্যারেন্টহুড এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রক্ষায় তিনি কাজ করেছেন। জেন্ডার-অ্যাফার্মিং স্বাস্থ্যসেবার অধিকার রক্ষায়ও ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকার বিষয়টি সামনে রয়েছে। নিউইয়র্কের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষাকে নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন লেটিশিয়া জেমস।
তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় তাঁর দপ্তর ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা করেছে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আইনি পর্যবেক্ষক কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধেও তিনি আইনি লড়াই করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
গৃহহীনদের আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তালিকায়। গৃহহীন মানুষের জন্য স্থায়ী আবাসন এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন জেমস।
তাঁর দাবি, নিউইয়র্কের হাজার হাজার পরিবারের স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সহায়তাকারী কন্টিনিউয়াম অব কেয়ার কর্মসূচির অর্থায়ন রক্ষায় তিনি কাজ করেছেন। গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ-এর অর্থায়ন সীমিত করার কিছু ফেডারেল উদ্যোগের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে প্রবীণ সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী নিউইয়র্কবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বর্ণবৈষম্য ও সমান অধিকার এর বিষয় তার রয়েছে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা। বর্ণভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণে আবাসন খাতে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তা অধিকার রক্ষায় কাজ করার কথা জানিয়েছেন জেমস।
তাঁর দাবি, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আবাসন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হয়েছে। সিসার বিষক্রিয়ায় শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্ণগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বাজারজাত করা ক্ষতিকর পণ্যের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভোটাধিকার সীমিত করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। নিউইয়র্কের স্কুলগুলোর জন্য ফেডারেল সরকারের বরাদ্দ করা বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অবৈধভাবে কমানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন জেমস।
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় আইন প্রণয়নে সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায় এবং স্কুল বন্ধ হওয়া ঠেকানোর উদ্যোগের কথাও তাঁর নির্বাচনী বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ ও পর্যাপ্ত অর্থায়নপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানা গেছে, লেটিশিয়া এ. জেমস লেহম্যান কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল হওয়ার আগে তিনি লিগ্যাল এইড সোসাইটিতে পাবলিক ডিফেন্ডার হিসেবেও কাজ করেছেন। বর্তমানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
নির্বাচনে জেমসের প্রতিশ্রুতির মূল বিষয় হলো: লেটিশিয়া জেমস তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারে তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন-জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখা ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সবার জন্য ন্যায়বিচার ও সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা অ্যাটর্নি জেনারেল পদে তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা, অভিবাসী অধিকার, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও ভোক্তা সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগামী দিনের নীতিনির্ধারণে এই নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লেটিশিয়া এ. জেমস প্রার্থী হয়েছেন, ডেমোক্র্যাটিক ও ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি থেকে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নির্বাচন করছেন। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz