বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাশতা বানান, বাসনও মাজেন

জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাশতা বানান, বাসনও মাজেন

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, দৈনন্দিন ব্যস্ততার পাশাপাশি ঘরের কাজ সামলাতে তাকে পুরুষ পূর্বসূরিদের চেয়ে সম্ভবত ‘তিন থেকে চার ঘণ্টা’ বেশি সময় ব্যয় করতে হয়।

গত বছর জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া তাকাইচি বুধবার (১৪ অক্টোবর) পার্লামেন্টে বলেন, ‘সকালে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি, তারপর বাসন ধুই। এর পাশাপাশি সাজগোজও করতে হয়।’ টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এসব কাজ করতে পুরুষ প্রধানমন্ত্রীদের তুলনায় আমার তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি সময় লাগে।’

নিজেকে কাজপাগল বলে পরিচয় দেওয়া তাকাইচি এর আগে বলেছিলেন, তিনি রাতে মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমান। কখনো কখনো রাত তিনটায়ও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করেন।

জাপানে নারী-পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বেশ কঠোর। দেশটির রাজনীতিতেও নারীরা দীর্ঘদিন ধরে কম প্রতিনিধিত্ব করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নিম্নকক্ষের নির্বাচনে ৪৬৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬৮টিতে নারী প্রার্থীরা জয়ী হন।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীরা সাধারণত পার্লামেন্টের অধিবেশনে দীর্ঘ সময় কাটান। এ নিয়ে তাকাইচির সময় ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের এক সদস্য প্রশ্ন করেন।

জাপানের সরকারপ্রধানদের প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা পার্লামেন্টে কাটানো সাধারণ ঘটনা। এ সময় তাদের বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হয় অথবা অধিবেশনে বসে থাকতে হয়।

জাপান ইনোভেশন পার্টির আইনপ্রণেতা ফুমিতাকে ফুজিতা এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্টের অধিবেশনে অংশ নেন। যুক্তরাজ্যে এ সংখ্যা ৫০ দিন এবং জার্মানিতে ১৩ দিন।

আইন প্রণয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও ফুজিতা বলেন, ‘আমাদের নেতাকে এত দীর্ঘ সময় পার্লামেন্টে আটকে থাকতে হয়—এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি বলেছিলেন, ‘কাজ থেকে বাড়িতে আনা নথি এবং পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর-সংক্রান্ত কাগজপত্র গভীর রাত পর্যন্ত পড়তে পড়তে ভোর হয়ে যায়।’

বুধবার তিনি বলেন, ‘বাড়িতে নিয়ে আসা নথির এই স্তূপগুলো মধ্যরাতে পড়তে আমার ভালোই লাগে।’

তবে তিনি বলেন, ‘দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ কিংবা এ নিয়ে আমার বৃহত্তর পরিকল্পনা সম্পর্কে ঠান্ডা মাথায় গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য সময় বের করা কঠিন।’

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz