বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা : রাশেদ খান • ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার সন্দেহে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা আটক • এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ • কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া সেই প্রসিকিউটর দেশ ছেড়েছেন • শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণের সময় হামলার শিকার তৌফিকের মৃত্যু • ‘২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১ এর রাজাকার’ • চলতি বছরের পর ইসরায়েলকে অর্থ-সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের • প্রথমবার পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পেলেন রোনালদো জুনিয়র • ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন : যেসব অঙ্গরাজ্য পেতে পারে প্রথম নারী গভর্নর

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্পবিরোধিতায় জোর লেটিশিয়া জেমসের

শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্পবিরোধিতায় জোর লেটিশিয়া জেমসের

নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস - ফাইল ফটো

বিজ্ঞাপন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রচারে স্থানীয় নীতির বিস্তারিত আলোচনার চেয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কথাই বেশি তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। ১ নভেম্বর রোববার সন্ধ্যায় ব্রুকলিন বরো হলের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তাঁর সঙ্গে ছিলেন টেক্সাসের বিদায়ী কংগ্রেস সদস্য জেসমিন ক্রকেট।
সমাবেশে জেমস অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ কারণেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলদের এগিয়ে আসতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস নিজেকেই ক্ষমতাহীন করে ফেলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই প্রশাসনের বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার অবস্থায় এখন কংগ্রেস নেই। সে কারণেই আমি এবং আমার সহকর্মী ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা এগিয়ে এসেছি। আমরা তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা ঠেকাতে কাজ করেছি।’
৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচনে আবারও দায়িত্বে থাকার জন্য ভোট চাইছেন জেমস। বক্তব্যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্টের যেসব কর্মকাণ্ডকে তিনি বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী মনে করেন, সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেন।
জেমস বলেন, ‘আমরা কোনো রাজার সামনে মাথা নত করব না। আমরা আত্মসমর্পণ করব না, হার মানব না—কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আইনকে আমি তলোয়ার ও ঢাল—দুই হিসেবেই ব্যবহার করে যাব। এই বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের শাসন ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়াব।’
নিজের কাজের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে জেমস সংক্ষেপে দাবি করেন, তিনি সড়ক থেকে ১০ হাজারের বেশি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়েছেন। তবে বক্তব্যের বাকি অংশে ট্রাম্পের বিরোধিতা এবং তাঁর ক্ষমতায় আসার আগের স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই প্রাধান্য পায়।
জেমসের পর বক্তব্য দেন ক্রকেট। দলীয় প্রাইমারিতে ডেমোক্র্যাট জেমস ট্যালারিকোর কাছে পরাজিত হওয়া এই আইনপ্রণেতা আগামী ৩ জানুয়ারি কংগ্রেস ছাড়বেন। সমাবেশে তিনি বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ক্রকেট বলেন, ‘আমি প্রতিদিন কংগ্রেসে নিজের কৃষ্ণাঙ্গ পরিচয় নিয়ে মাথা উঁচু করে উপস্থিত হই। আমি জানি আমি কে, কোন জনগোষ্ঠীর মানুষ। কারা আমাকে কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন, সেটিও জানি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় কারা এত দিন সুযোগ পাননি, তা-ও আমি জানি। প্রশ্ন হলো, নিজেদের মুক্তির জন্য লড়তে আপনারা প্রস্তুত কি না। শুধু গায়ের রং কিংবা উচ্চারণের কারণে আমাদের প্রতিবেশীরা আক্রান্ত হয়েছেন। ভোট দেওয়ার বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে নিতে হবে।’
সমাবেশে দুই নেতার বক্তব্যের পাশাপাশি পরিবেশিত হয় স্যাম কুকের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গান ‘আ চেঞ্জ ইজ গনা কাম’ এবং কৃষ্ণাঙ্গদের জাতীয় সংগীত হিসেবে পরিচিত ‘লিফট এভরি ভয়েস অ্যান্ড সিং’।
সংখ্যালঘু ভোটারদের কাছে ট্রাম্পবিরোধী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই কৌশল নিউইয়র্কের অন্য শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারেও দেখা গেছে। গভর্নর ক্যাথি হোকুল তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানকে ট্রাম্পের অনুগত হিসেবে তুলে ধরেছেন। নির্বাচনের আগের শেষ দিন হারলেমে প্রচার চালিয়ে ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি নিউইয়র্ক সিটিতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে সমর্থন কমে যাওয়ার পর সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে ডেমোক্র্যাটরা। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে জো বাইডেন ট্রাম্পের বিপক্ষে যে ভোটের ব্যবধানে এগিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান ২২ শতাংশ কমে যায়। লাতিনো ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন এর বড় কারণ ছিল।
তবে এবারের নির্বাচনের আগে জরিপে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপ অনুযায়ী, অ্যাটর্নি জেনারেল পদে জেমসের সমর্থন প্রায় ৫৪ শতাংশ, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সরিতা কোমাতিরেড্ডির ৩৯ শতাংশ। গভর্নর পদে হোকুলের সমর্থন প্রায় ৫৪ শতাংশ, ব্লেকম্যানের ৪০ শতাংশ।
নিউইয়র্কে সর্বশেষ ২০০২ সালে জর্জ পাটাকি অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

ঠিকানা/শই
-

 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz