বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• ভাঙচুরের ভিডিও করায় তৌফিককে হত্যা করেছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা : রাশেদ খান • ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার সন্দেহে ৩ পুলিশ কর্মকর্তা আটক • এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ • কোটি টাকা ঘুষ চাওয়া সেই প্রসিকিউটর দেশ ছেড়েছেন • শ্রমিক আন্দোলনের ভিডিও ধারণের সময় হামলার শিকার তৌফিকের মৃত্যু • ‘২৪ এর রাজাকারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলো ৭১ এর রাজাকার’ • চলতি বছরের পর ইসরায়েলকে অর্থ-সহায়তা বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের • প্রথমবার পর্তুগাল অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পেলেন রোনালদো জুনিয়র • ‘ও আমাকে মা-বাবার চেয়েও বেশি বোঝে’ • যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন : যেসব অঙ্গরাজ্য পেতে পারে প্রথম নারী গভর্নর

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট পড়েছে ৫ কোটি ৮৭ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের লোগান শহরের একটি ভোটকেন্দ্রে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন মানুষ। ছবি : রয়টার্স

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

৫ কোটি ৮৭ লাখ আগাম ভোটের মধ্যে রয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ সরাসরি ভোট এবং ২ কোটি ৬৮ লাখ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট। ২০২২ সালে আগাম ভোট দেওয়া হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দলীয় সমর্থকের হিসাব রাখা হয়, সেখানে আগাম ভোটদাতাদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ ছিলেন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই আগেভাগে সশরীরে ভোট দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরুর কথা রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে। এ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে কখন জানা যাবে তা নিচে তুলে ধরা হলো।

প্রথম ফলাফল কখন আসবে?

ভোটগ্রহণের সময়কাল শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবারই প্রথম ফলাফল জানা যাবে। প্রথমে দেশটির পূর্বাঞ্চলের কিছু নির্বাচনি এলাকায় সন্ধ্যা ৬টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই ফলাফল আসতে থাকবে। বিভিন্ন রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর কর্মকর্তারা ভোট গণনা শুরু করেন। তবে কিছু কিছু আসনের ফলাফল জানতে বুধবার বা তার পরের দিনের জন্যও অপেক্ষা করতে হতে পারে।

নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলাফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে। এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা বুঝতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটগ্রহণ কখন শেষ হয়?

সর্বপ্রথম ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকির কিছু অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটগ্রহণ শেষ হয় যখন : পূর্বাঞ্চলীয় স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় (বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা) ইন্ডিয়ানা ও কেন্টাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা) ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট, ভার্জিনিয়ার বেশিরভাগ অংশ এবং ইন্ডিয়ানা, কেন্টাকির অবশিষ্ট অংশ ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বেশিরভাগ অংশে শেষ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) নর্থ ক্যারোলিনা, ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায়, রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টা) অ্যালাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ারের অবশিষ্ট অংশে, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি, ওয়াশিংটন ডিসি এবং ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কিছু অংশে, রাত সাড়ে ৮টায় (বুধবার সকাল সাড়ে ৭টা) আরকানসাস, রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৮টায়) অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন, ওয়াইওমিং; কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের অবশিষ্ট অংশে, রাত ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টায়) মন্টানা, নেভাদা, ইউটা, আইডাহো ও ওরেগনের কিছু অংশে, রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা) ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন, আইডাহো ও ওরেগনের অবশিষ্ট অংশে, মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার বেলা ১১টায়) হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিনগত রাত ১টা(বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর ১২টায়) অ্যালুশিয়ান দ্বীপপুঞ্জসহ আলাস্কার অবশিষ্ট অংশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

কোন অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোট গণনায় বেশি সময় লাগতে পারে?

আলাস্কা : এই অঙ্গরাজ্যে ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে বিজয়ী নির্ধারণের জন্য অতিরিক্ত ধাপে ভোট গণনা করতে হয়। নির্বাচনের আগের রাতে সশরীরে দেওয়া আগাম ভোট এবং নির্বাচনের দিনের ভোটের ফলাফল দ্রুত জানা গেলেও, ডাকযোগে আসা ভোটের ফলাফল পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালে নির্বাচনের পরের দিন সকাল নাগাদ প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা করা হয়েছিল এবং বাকি ভোটগুলো পরবর্তী দিনগুলোতে গণনা করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া : এই অঙ্গরাজ্যে মূলত ডাকযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর পর্যন্ত প্রচুর সংখ্যক ব্যালট এসে পৌঁছায় এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে হয়। ফলে, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

অ্যারিজোনা : কিছু কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটগুলো নির্দিষ্ট স্থানে জমা দেন। গণনার আগে এই ব্যালটগুলোর স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়, যার ফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল আসতে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।

নেভাদা : সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। ডাক বিভাগের সিল দেওয়া ব্যালটগুলো নির্বাচনের চার দিন পর পর্যন্ত এসে পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া স্বাক্ষরের কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয় দিন পর্যন্ত সময় পান; এর ফলে ফলাফল আসতে পরের সপ্তাহ পর্যন্ত দেরি হতে পারে।

মেইন : আলাস্কার মতো এই অঙ্গরাজ্যেও ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। যদি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান, তবে ব্যালটগুলো মেইনের রাজধানী অগাস্টাতে নিয়ে গিয়ে পুনরায় গণনা করতে হয়। এর ফলে চূড়ান্ত ফলাফল আসতে দেরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন : এই অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডাক বিভাগের সিল দেওয়া ব্যালটগুলো ভোটগ্রহণের পরবর্তী দিনগুলোতে গণনা করা হতে পারে, যার ফলে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব ঘটতে পারে।

কোন অঙ্গরাজ্যগুলোতে আগে ফলাফল জানা যাবে?

যেসব অঙ্গরাজ্য তুলনামূলক দ্রুত ফলাফল জানাতে পারে, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো—

ফ্লোরিডা : এখানে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা করা হয়। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫১ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় পরদিন সকাল ৯টা ৫১ মিনিট) মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল।

ওহাইও : ওহাইওতে সাধারণত আগাম ভোট এবং অনুপস্থিত ভোটারদের দেওয়া ভোটের ফলাফল সবার আগে প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ছয় মিনিট পর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭তা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় পরের দ্বীন সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে) প্রথম ফলাফল পাওয়া যায়। ভোট গ্রহণের পর রাত ১১টা ৩ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩ মিনিট) মধ্যে ৯০ শতাংশ ফলাফল জানা গিয়েছিল।

নর্থ ক্যারোলাইনা : পূর্ব উপকূলের এই অঙ্গরাজ্যটিতেও ডাকযোগে আসা ভোটের বড় অংশ রাতের প্রথম আপডেটেই প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ২০২৪ সালে এই অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩৬ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট) মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল।

পেনসিলভেনিয়া : ২০২৪ সালে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা) ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করে। রাত ১০টা ১২ মিনিটের (সকাল ৯টা ১২ মিনিটের) মধ্যে অর্ধেক ভোট গণনা হয়ে যায় এবং পরদিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের) মধ্যে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়।

উইসকনসিন : ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর দিনগত রাত ২টা ২২ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২২ মিনিটের) মধ্যে এই অঙ্গরাজ্যের ৯০ শতাংশ ভোটের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

তাহলে কে জিতল, তা আমরা কখন জানতে পারব?

নির্বাচনের রাতেই অনেক আসনের ফলাফল জানা হয়ে যেতে পারে, তবে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরে কোন দল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আলাস্কায় মার্কিন সিনেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে যদি ‘র‍্যাঙ্কড-চয়েস’ পদ্ধতিতে ভোট গণনার প্রয়োজন হয়, তবে পরবর্তী ধাপের গণনা ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সুতরাং, সব ফলাফল জানার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। যেসব আসনে ব্যবধান বড়, সেসব ক্ষেত্রে সব ভোট গণনার আগেই সংবাদমাধ্যমগুলো বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দিতে পারে; যদিও আনুষ্ঠানিক ফলাফলের প্রত্যয়ন করা হয় অনেক পরে। তাই দ্রুত সংবাদ পেলেও নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

২০২৪ সালে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দল পাবে তা নির্ধারণ করতে আট দিন সময় লেগেছিল।

ফলাফল নিয়ে কোনো প্রার্থী আপত্তি তুললে কী হয়?

যদি কোনো নির্বাচনে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তবে ওই অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা নিজেদের ইচ্ছায় অথবা কোনো প্রার্থীর অনুরোধে পুনরায় ভোট গণনা (রিকাউন্ট) শুরু করতে পারেন। এ ছাড়া প্রার্থীরা চাইলে আদালতে ফলাফলকে চ্যালেঞ্জও করতে পারেন। এতে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।

ট্রাম্প নিজেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চূড়ান্ত ফলাফলকে সম্মান জানাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবেই আমি তা মেনে নেব।’

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেবল নিজের মতের অমিল হওয়ার কারণে কংগ্রেস নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দিতে পারেন না। নির্বাচন পরিচালনা ও ফলাফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব থাকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ওপর, আর কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।

ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ মালি স্মিথ বলেন, সব অঙ্গরাজ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও স্বীকার করে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোরই।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের সদস্যদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে। বিরোধের ধরনের ওপর নির্ভর করে, পুনরায় ভোট গণনা বা আইনি চ্যালেঞ্জের সুরাহা হতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে।

ঠিকানা/এএস 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz